ডোবা দেখিয়ে পুকুর ভরাট করছেন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান! গত ছয় দিন ধরে বানিয়াচং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের পুকুরে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। পুকুর বা জলাশয় ভরাটে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেয়া হয়নি ভরাটে। কাবিখা খাতে দুবার সরকারি অর্থ বরাদ্দও মিলেছে পুকুর ভরাটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছর ১৪ নভেম্বর চেয়ারম্যান একটি প্রস্তাব পাঠান উপজেলা পরিষদে। চলতি বছর ১৭ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভা ও ৩০ এপ্রিল জেলা কর্ণধার কমিটির বিশেষ সভায় প্রস্তাবটি পাস হয়। পুকুর ভরাটে চেয়ারম্যান কর্তৃক রেজুলেশনে তথ্য গোপন করে পুকুরকে দেখানো হয়েছে ডোবা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দুটি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি এনে পুকুরে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। পুকুরের পাশে একটি মাধ্যমিক স্কুল, প্রাইমারি স্কুল, প্রাইমারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সরকারি খাদ্যগুদাম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, এনজিও ব্র্যাক অফিস, মসজিদ, বাসাবাড়ি ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পুকুরটি বড় ভূমিকা রাখছে।
চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, জলাশয় ভরাট করে সেখানে বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করা হবে। পার্শ্ববর্তী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মমিন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে এখানে বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়ার ব্যাপারে তিনি জানান, ডোবা ভরাটে কোনো ছাড়পত্র লাগে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি তোফাজ্জল সোহেল বলেছেন, পুকুর ভরাট করা সুস্পষ্ট অন্যায়। পুকুর কিংবা জলাশয় ভরাটে সরকারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ভরাট করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) বিএম মশিউর রহমান জানান, পুকুরটি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব সম্পত্তি। তাদের সমন্বয় সভায় ভরাটের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু করার থাকে না। সেটা দেখবে পরিবেশ অধিপ্তর।
