ঈদকে ঘিরে টুপি তৈরিতে ব্যস্ততা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৪, ২১:২৮
গত এক দশকে পদ্মার ভাঙ্গনকবলিত দুই শতাধিক পরিবার বর্তমানে বসবাস করছে ফরিদপুরের বায়তুল আমান এলাকার রেললাইনের পাশে। এদের অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রায় শতাধিক নারী দশ বছর যাবত্ তৈরি করছেন টুপি। তাদের তৈরি টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ঈদ। আর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফরিদপুরের টুপি তৈরির কারিগররা। এই টুপির কাজ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন জেলার বায়তুল আমান এলাকার এ নারীরা। জানা যায়, শুধু ঈদের সময় নয়, সারাবছর টুপি তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন কারিগররা। পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের শিকার অর্ধশতাধিক পরিবারের শতাধিক অসহায় নারী গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি করে বাড়তি উপার্জনের মাধ্যমে সংসারের চাহিদা মেটাচ্ছেন। গত দশ বছর ধরে এসব নারী তাদের হাতের নিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে তৈরি করছে আধুনিক মানের টুপি। ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমান এলাকার রেললাইনের পাশে বসবাসকারী এসব পরিবারের শতাধিক নারী এখন টুপি সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারে সচ্ছলতা আনেন। টুপি তৈরির কারিগর জোত্স্না বেগম জানান, দশ বছর ধরে টুপি তৈরির কাজ করি। যে পরিশ্রম করি সে হিসাবে মজুরি পাই না। অভাবের সংসারে স্বামীকে একটু সহযোগিতা করার জন্যই এই কাজ করি। আরেক কারিগর আশা আক্তার বলেন, একজন দক্ষ কারিগর প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচটি টুপি তৈরি করতে পারে। প্রতিটি টুপির মজুরি হিসেবে ৪শ’ টাকা পাই। আমরা যে পরিশ্রম করি সে অনুযায়ী এই মজুরি অনেক কম। কারিগররা জানালেন, টুপি ব্যবসায়ীরা এই টুপি তৈরির উপকরণ সরবরাহ করেন। টুপি তৈরি হয়ে গেলে মজুরির টাকা দিয়ে তারা এই টুপি নিয়ে যান। নিখুঁত কারুকাজ খচিত এই টুপি’র দেশীয় বাজার তৈরি ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে তারা আরো ব্যাপকভাবে এই শিল্পের বিস্তার ঘটাতে পারতেন। গ্রামের এই নারীদের নিখুঁত সূচিকর্ম-খচিত টুপিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে রপ্তানি হচ্ছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। দশম শ্রেণীর ছাত্রী সীমা আক্তার জানায়, সে লেখাপড়ার পাশাপাশি টুপি তৈরির কাজ করে। এই কাজ করে তার লেখাপড়ার খরচ চলে যায়। সে আরও জানায়, তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও টুপি তৈরি করে সংসারের খরচ চালায়। আরেক কারিগর বিউটি বেগম জানান, এমনিতেই সারা বছর টুপির কাজ চলে। ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ আরও বেড়ে গেছে। একটু কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু ঈদের খরচ মেটানোর জন্যই এই অতিরিক্ত পরিশ্রম করছি। ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিটি টুপি বিদেশে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিক) উপ-মহাব্যবস্থাপক আবদুস সালাম মোল্লা ইত্তেফাককে বলেন, এই শিল্পটি সম্ভাবনাময়ী ক্ষুদ্র শিল্প। যদি কেউ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিতে চায় তারা বিসিকের কাছ থেকে সে সুযোগ নিতে পারে। বৃহত্ দেশীয় বাজার তৈরির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি টুপি তৈরির কারিগরদের পরামর্শ দিয়েছি তাদের একটি সমিতি করার, এই সমিতি’র মাধ্যমে দেশীয় বাজার তৈরিতে আমরা তাদের সহায়তা করতে পারি। এছাড়া ঢাকায় মাহিলাদের হ্যান্ডিক্রাফ্ট বাজার আছে, আমরা সেখানেও তাদের সংযুক্ত করে দিতে পারি।