রাজধানীর লালবাগে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, নয় জনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে নিম্ন আদালতের দেয়া রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স ও নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে ছয় জন এবং পরে একজন মারা যান। গুলিবিদ্ধ হন ১৩ জন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে ৮ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা উঠে এসেছে। ফলে আসামিরা কোন অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নন। তাদের সাজা বহাল রাখা হলো।
২০০৮ সালে ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল আব্দুস সালাম ওরফে মতি এবং জাহিদ হাসান ওরফে নাটকা বাবুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আব্দুল আলিম ওরফে শাহীন, মুনির পাটোয়ারী, মাহতাব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডা, আমির হোসেন আমির, দিল মো. মতি, কানু ওরফে কাইল্যা, মোজাম্মেল ও মুন্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তত্কালীন কমিশনার প্রার্থী আব্দুল আজিজকে দশ বছর দণ্ড দেয় আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সাজার এ রায় বহাল রাখে। একইসঙ্গে জামিনে থাকা মাহাতাব হোসেন, মনির পাটোয়ারী ও আব্দুল আজিজকে এক মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দিল মোহাম্মদ ওরফে মতি ও মোজাম্মেল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আটক বা আত্মসমর্পণের পর থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে।
লালবাগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কমিশনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯৪ সালে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিশনার নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির। বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা পরদিন বিজয় মিছিল বের করে। লালবাগের নবাবগঞ্জ রোডের ওপর মিছিলে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আজিজ মিয়ার সমর্থকরা হামলা করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় ছয় জন। এছাড়া চিকিত্সাধীন অবস্থায় ঘটনার ২/৩ মাস পর মৃত্যুবরণ করে আরো একজন। পরাজিত প্রার্থী আব্দুল আজিজসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন হুমায়ুন কবির। পরে মামলাটি তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৮ সালে ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল রায় দেয়।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য তা ডেথ রেফারেন্স আকারে এবং পলাতক দুই আসামি ছাড়া সকলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আসামি পক্ষে এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এডভোকেট এসএম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, এডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
