ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে পুরাতন টাকা যেন বেমানান। তাই এদিন যদি হাতে থাকে নতুন কচকচে টাকা, তাহলে ছোটদের ঈদের আনন্দ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শুধু ছোটরা কেন? নতুন টাকা কাছে থাকলে বড়দেরও মন ভাল থাকে। মুসলিম সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় উত্সব ঈদে নতুন টাকা দিয়ে সালামির প্রচলন বহু আগ থেকেই। ঈদ সালামি হিসাবে ছোট-বড় সবার কাছেই অন্যরকম চাহিদা থাকে নতুন টাকার। এজন্য ঈদ এলেই কদর বেড়ে যায় নতুন টাকার।
ঈদে নতুন টাকা সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত এক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কাউন্টারে নতুন টাকার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে অনেককে। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ব্যাংকের কাউন্টারে বাড়ছে দীর্ঘ লাইন।
নতুন টাকার চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নতুন টাকা বেচা-বিক্রির দোকান। টাকার পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বিক্রেতারা। বড় নোট দিয়ে খুচরা টাকা নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে যারা সময় নষ্ট করতে চান না অথবা অফিস সময়ের পরে ঝামেলামুক্তভাবে নতুন টাকা নিতে চান মূলত তারাই এসব অস্থায়ী দোকানের ক্রেতা। তবে সেক্ষেত্রে বান্ডিল (প্রতি বান্ডিলে ১০০ পিস নোট) প্রতি নোটভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অস্থায়ী বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদে ২, ৫, ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা বেশি। ৫০ ও ১০০ টাকার বান্ডিলও নিচ্ছেন কেউ কেউ। এছাড়া এক ও দুই টাকার কয়েনের চাহিদাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের অস্থায়ী নতুন টাকা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চার হাজার ১০০ টাকা দিয়ে ১০ টাকার চার বাল্ডিল টাকা কিনেছেন মগবাজারের এক বাসিন্দা। তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি বললেন, দু’একদিনের মধ্যেই বাড়ি যাব। বাড়িতে ছোট ভাই বোন ও প্রতিবেশীদের জন্য নতুন টাকা কিনলাম। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর মত সময় নেই, তাই এখান থেকে কিছু নতুন টাকা কিনে নিলাম। রাজধানীর আরেক বড় অস্থায়ী নতুন টাকার বাজার গুলিস্তানে যেয়েও দেখা গেছে, প্রচুর বিক্রি হচ্ছে নতুন টাকা। সাধারণত চলতি পথের লোক ও যাদের ব্যাংকে যাওয়ার সময় নেই এ ধরনের ব্যক্তিরাই এ সব টাকার ক্রেতা।
একজন স্কুল শিক্ষিকা বলেন, ঈদে নতুন টাকার আবেদন বরাবরই ছিল। নতুন টাকা হাতে থাকলে অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি হয়। আর সে টাকা যদি হয় সালামি বা উপহারের তাহলে আনন্দ আরো বেশি পাওয়া যায়। যখন ছোট ছিলাম তখন মা-বাবা, চাচা-মামাদের কাছ থেকে নতুন নোট উপহার পেতাম। এখন ছেলে-মেয়ে, ভাই- বোনসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনকে টাকা দিয়ে থাকি। ছোটরা অন্যান্য উপহারের চেয়ে ঈদের দিন নতুন টাকাই পেতে চায়। ঈদে নতুন টাকার আবেদন ও কদর অনেক বেশি। তাই যে করেই হোক নতুন নোট ঈদে চা-ই চাই।
জানা গেছে, এবারের ঈদে ২২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এর মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকাই নতুন নোট। নতুন টাকা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পেতে পারেন সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসগুলোতে কাউন্টার খোলা হয়েছে। পহেলা রমজান থেকে এসব কাউন্টারে টাকা দেয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (মহাব্যবস্থাপক) জোয়ারদার ইসরাইল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন উত্সব বিশেষ করে ঈদে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এ সময় বাজারে নতুন নোট ছাড়া হয়। আর এ সুযোগ নিয়ে মুদ্রা বিনিময়কারীসহ বিভিন্ন দালাল চক্র নতুন নোটের ব্যবসা করতে চায়। সেটা বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ গ্রাহকরা কোন ধরনের হয়রানি ছাড়াই যেন নতুন টাকা পেতে পারেন সেজন্য ক্যাশ কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আর সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
