স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিধবা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৪, ২১:২৯
রাজধানীর মিরপুরের বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন যুবক হাউজিংয়ের উত্তর পার্শ্বে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। গত ১২ জুন অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে শারমিন সুলতানা মিনু ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ আবুল হাসেম। তিনি মিনুর স্বামী। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একদিন আগে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মিনু তার সন্ধান পাননি। তার ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। তখন থেকেই অজানা এক আশঙ্কা কাজ করছিল মিনুর। কারণ কিছুদিন থেকে তার স্বামীকে হত্যার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছিল। স্বামীর লাশ উদ্ধারের পর মিনু রাজধানীর তুরাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে একমাত্র আসামী করা হয় তার স্বামীর ভাগ্নিজামাই আবুল হাসেমকে। কারণ এই ভাগ্নিজামাইয়ের সঙ্গেই জমি নিয়ে তার স্বামী সৈয়দ আবুল হাসেমের বিরোধ চলছিল। উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের শেষে হরিরামপুর ইউনিয়নে সৈয়দ আবুল হাসেমের একটি ৩ কাঠার প্লট আছে। ওই প্লটটিই ভাগ্নিজামাই দখল করতে চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ যখন তুঙ্গে তখন আবুল হাসেম তার স্বামীকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। এ কারণে সৈয়দ আবুল হাসেম তুরাগ থানায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগই নেয়নি। শারমিন সুলতানা মিনু ইত্তেফাক অফিসে এসে অভিযোগ করেন, ঘটনার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও তুরাগ থানা পুলিশ আবুল হাসেমকে গ্রেফতার তো দূরে থাক জিজ্ঞাসা-বাদেরই উদ্যোগ নেয়নি। এ কারণে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তরের জন্য চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে মামলাটি ডিবিতে এসেছে। ডিবি এখনো মামলাটির তদন্তই শুরু করতে পারেনি। স্বামী হত্যার মামলা দায়েরের পর থেকেই শারমিন সুলতানা মিনুর দুর্ভোগের শুরু। তিনি এখন শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, মামলার কারণে আসামি আবুল হাসেম ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি ৪ বছরের একমাত্র ছেলে সাজেদুল ইসলাম সাজিদকে অপহরণও করতে চায়।