ঈদের আগের ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা দিতে ও তুলতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সাধারণত, ঈদের সময় মানুষের নগদ টাকা প্রয়োজন হয়। আবার ব্যবসা বাণিজ্যের নগদ টাকা ব্যাংকে জমা দেন ব্যবসায়ীরা। তাই ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এটিএম বুথেও টাকা তুলতে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেশিরভাগ ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। ফলে ঈদের আগে গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক ব্যাংকই এখন হিমশিম খাচ্ছে। তারা আন্তঃব্যাংক কলমানি ও রেপো নিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কলমানি লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আন্তঃব্যাংক রেপো ব্যবস্থায়ও এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের ধার দেওয়া-নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে।
সাধারণত, সংকটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। এক রাতের (ওভার নাইট) জন্য এই ধার দেওয়া হয়। এই ধার দেওয়া-নেওয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হয় আন্তঃব্যাংক কলমানি মাকের্েট। নগদ টাকা ধারের চাহিদার ওপর এই মার্কেটের সুদহার ওঠানামা করে।
প্রতি বছরই ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকা সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক কলমানি বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। নগদ টাকার সঙ্কট বেশি হলে আন্তঃব্যাংক কলমানিতে বেশি সুদে অর্থ ধার করতে হয়। গত কয়েকবছর ধরেই কলমানি স্বাভাবিক থাকলেও এবার তা এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে।
এদিকে ঈদের আগে বৃহস্পতিবার ছিল ব্যাংকের শেষ কার্যদিবস। ফলে এদিন টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে ব্যাংকে গ্রাহকদের ভিড় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ছিল। এটিএম বুথেও লাইন ধরে টাকা তুলতে দেখা গেছে। শুধু নগদ টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়াই নয়, শেষ কার্যদিবস হওয়ায় নতুন টাকা সংগ্রহের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ভিড় করেন গ্রাহকরা। এতে ব্যস্ত সময় পার করেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা পল্টন, কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদে বাড়তি কেনাকাটার জন্য নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে গ্রাহকদের সুবিধার্থে সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় এবার কলমানির সুদ স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা গেছে, এবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ ঈদে টানা ৯দিন অফিস আদালত ও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এতদিন একসঙ্গে বন্ধ থাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও এটিএম বুথে গ্রাহকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে। যদিও পোশাক শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ ও রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে’ গত বুধবার ব্যাংক বন্ধের দিনও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা ছিল।
এ বিষয়ে মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের একজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বলেন, বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবস হওয়ায় সকাল থেকে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় এদিন বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে নগদ টাকার কোনো সমস্যা হয়নি।
