যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংকটে উত্পাদন ব্যাহত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২১:২৪
দেশের সর্ববৃহত্ অত্যাধনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ১৭শ’ টন ইউরিয়া সার উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)-এ ওভারহোলিং-এর নামে কোটি টাকা হরিলুট হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিস করর্পোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন যমুনা সার কারখানায় ৫৯ কোটি টাকা ওভারহোলিং বাজেট বরাদ্দ করে। ওভারহোলিং-এ ১৯ দিন এবং এনজি বোস্টার স্থাপনের ১৭ দিন মোট ৩৬ দিন উত্পাদন ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। গত ৫ জুন থেকে ১শ’ ৩৭ জন, বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, ঠিকাদারের মাধ্যমে দক্ষ-অদক্ষ ৪শ’ জন শ্রমিক, বিভিন্ন কারখানা থেকে ভাড়া করা টেকনেশিয়ানসহ কারখানার স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীরা ওভারহোলিং-এ কাজ করে। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, এলাকার প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে ব্যক্তিগত পকেট ভারির করতে নামে-বেনামে, দরপত্রবিহীন দামি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয় না করে তড়িঘড়ি করে ৫২ দিনের ওভারহোলিং-কাজ শেষ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে করে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, গত অর্থ বছরে কর্তৃপক্ষ ওভারহোলিং-এর আগে কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস প্রাপ্তির লক্ষ্যে ৩৮ কোটি টাকা মূল্যের এনজি বোস্টার স্থাপনের নামে ১৭ দিন উত্পাদন বন্ধ রাখে এবং গত ২ জুন থেকে আবারও ওভারহোলিং-এর নামে উত্পাদন বন্ধ করায় ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। একারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীরা বার্ষিক উত্পাদনের ৫% লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী জানান, কর্তৃপক্ষ যে উদ্দেশ্য নিয়ে এনজি বোস্টার স্থাপন করেছে মূলত সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় করে কোন সুফল পায়নি। কেননা এনজি বোস্টার স্থাপন করা হলেও নানা জটিলতার কারণে সেটা চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে যমুনা সার কারখানার ওভারহোলিং সংক্রান্ত তথ্যের জন্য কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক বাণিজ্যিক, মহাব্যবস্থাপক উত্পাদন, মহাব্যবস্থাপক এমটিএস, ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক নির্মাণ-এর কাছে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তারা কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কারখানা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইখলাছ উদ্দীন জানান, যমুনা সার কারখানার বার্ষিক ওভারহোলিং বিসিআইসি-এর নিয়ম ও আইন মোতাবেক সম্পন্ন করা হয়েছে। ওভারহোলিং-এ কোন রকম অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি বরং কারখানা কর্তৃপক্ষের আপ্রাণ চেষ্টায় মোটা অঙ্কের একটা টাকা সেভ করা হয়েছে।