লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ও খনন করে পাচারের জন্য বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ করা হয়েছে। পাথর আহরণের জন্য শতাধিক পাহাড় এবং ঝিরি খনন করা হয়েছে। নির্বিচারে পাথর আহরণের ফলে পুরো ইউনিয়নে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে।
সরেজমিন পরিদর্শনে ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, অবৈধভাবে পাথর পাচারকারী সিন্ডিকেটের কাছে পুরো ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজার, কাঠাল ছড়া, ইয়াংছা মেম্বার পাড়া, গুলির মাঠ, শামুক ঝিরি, বধুঝিরি, মিরিঞ্জা, বনফুর বাজার, ছমু খাল, পাইক ঝিরি, ওয়াক্রা পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া, মরার ঝিরি, চছাই পাড়া, কেরানী ঝিরি, কৈয়তরের ঝিরি, বুধংঝিরি, চিনির ঝিরি, গয়ালমারা, বালষ্ট কারবারী পাড়া, বালুর ঝিরি, আলিক্ষং ঝিরি, রামগতি, লাইল্যারমার পাড়া, হারগাজা এলাকায় বর্তমানে ৬ লক্ষাধিক পাথর পাহাড় কেটে উত্তোলন করে মজুদ করে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন ও রাতে ট্রাক যোগে এসকল পাথর অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হচ্ছে।
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল জানিয়েছেন, নির্বিচারে পাহাড় এবং ঝিরি খনন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনসহ পরিবেশ বিধ্বংসী চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে লামা ও আলীকদম উপজেলা আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ সকল পাথর উত্তোলন ও ব্যবসার সাথে জড়িত জানান, পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের জন্য প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন নাই। তবে স্থানীয়ভাবে চাহিদার ভিত্তিতে সমন্বয় করে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, পাথর পাচার করতে গিয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনফুর, ইয়াংছা ও হারগাজা এলাকার কয়েকটি সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাথর উত্তোলন ও পাচার কাজে ইয়াংছা ও বনফুর ভিত্তিক পৃথক কয়েকটি সিন্ডিকেট কাজ করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নবগঠিত বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ.কে.এম সামিউল আলম কুরসী জানান, পাহাড় কাটা ও পাথর উত্তোলনের বিষয়ে শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উপজেলা সদর থেকে অভিযানে যেতে যেতে পাচারকারীরা খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত সকল সংস্থা ও জনগণের সহযোগিতা নিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী এ সকল কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অবৈধভাবে পাথর পাচার বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
