গাজীপুরে শেষ মুহূর্তের ঈদ বাজার সরগরম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২১:২৯
গাজীপুরে মার্কেট, বিপণী বিতান ও শপিংমল ও ফুটপাত এবং হকার্স মার্কেটগুলোতে শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সকাল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মার্কেটগুলো ক্রেতাদের পদচারণায় থাকে মুখরিত। নজরকাড়া ডিজাইন আর মডেলের পোশাক শোভা পাচ্ছে বিপণী বিতানগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী ছাড়াও মহিলা ও শিশুদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। নগরীর প্রাণকেন্দ্রের সাঈদ ভবন, মাজেদা কমপ্লেক্স, গাজীপুর ম্যানশন, বিউটি প্লাজা, মোশারফ টাওয়ার, টানভীর প্লাজা, এশিয়ান টাওয়ার, চান্দনা চৌরাস্তার অনুপম ম্যানশন, শাপলা ম্যানশন, নাসির সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের বিপণী বিতান ঘুরে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিটি দোকানেই চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। এবার রোজার শুরুতেই মার্কেটগুলো আকর্ষণীয় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। আর ক্রেতার মন জয় করতে নানা দাম ও মূল্যের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন দোকানীরা। বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদে পাখি ড্রেস, থ্রি পিস, লং সুতি কামিজ, পাকিস্তানী লং কামিজ, শাড়ী, কাঞ্চি বরণ, গাদল কাতান, টাঙ্গাইল শাড়ি, পাকিস্তানী শিপন বিক্রি হচ্ছে বেশি। এছাড়া জর্জেটের উপর শাড়ি কাপড়, তাঁতের উপর কাজ করা শাড়ি কাপড় ও সিনথেটিক কাপড়ের চাহিদা যথেষ্ট। পাঞ্জাবি, জিন্স, টি শার্টের দোকানেও নিজের পছন্দেরটি খুঁজছেন তরুণরা। শিশুদের জন্য বিক্রি হচ্ছে সুতির পোশাক। সব মিলিয়ে ঈদের বাজার এখন সরগরম। তবে প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে মেয়ে শিশু ও তরুণীর পোশাক পছন্দের শীর্ষে ভারতীয় বাংলা টিভি চ্যানেল স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ বাংলা সিরিয়ালের নায়িকা পাখির নাম অনুসারে তৈরি ‘পাখি ড্রেসের’। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার পোশাকের দাম অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এ অবশ্য ঐ অভিযোগ মানতে চান না দোকানীরা। তাদের মতে বিদেশি পোশাকের মান উন্নত ও ভাল। তাই এসব পোশাকের দাম একটু বেশি। পাখি ড্রেস প্রকার ভেদে ৩ থেকে ১০ হাজার, পাকিস্তানী লং কামিজ ২- থেকে ৩ হাজার, কাঞ্চি বরণ ৮ থেকে ১৪ হাজার, গাদল কাতান ৫ থেকে ১০ হাজার, পাকিস্তানী শিপন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের লেহেঙ্গা ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানিক বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অন্তু চৌধুরী জানান, রাজধানী ঢাকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে গাজীপুরেও ক্রেতাদের পছন্দের কাপড় সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ক্রেতা তুলনামূলক কম। তারপরও ভালই বিক্রি হচ্ছে। সুমনা বস্ত্রালয়ের মালিক সুভাস চন্দ্র সাহা জানান, এবার ঈদে পাখি ড্রেস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্য পোশাকের বিক্রিও কম নয়। গাজীপুরের নিম্ন আয়ের লোকজন ছাড়াও গার্মেন্টস শ্রমিকরা ফুটপাত ও ছোট ছোট দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ মাঠ, চান্দনা স্কুল মাঠ, চৌরাস্তা হকার্স মার্কেট, কোনাবাড়ি হকার্স মার্কেট শহরের অন্য হকার্স মার্কেটগুলোতে এখন শুধুই উপচেপড়া ভিড়। নিম্ন আয়ের মানুষরা তাদের সাধ্যের মধ্যে পছন্দসই পোশাক কিনে নিচ্ছেন এসব দোকান থেকে। ফুটপাতে পোশাক কিনতে কৃষি শ্রমিক বাবুল মিয়া বলেন, রোজগারের টাকায় সংসার চালানোই কঠিন। তারপরও সন্তানদের জন্য কিনতে হচ্ছে। বড় মার্কেটে যাওয়ার সাধ্য আমাদের নেই। তাই ফুটপাত থেকেই কিনছি’।