এবার যানজট নেই মহাসড়কে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৪২
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত তিন দিন ধরে দেখা যায়নি যানজটের ভয়াবহতা। তবে দফায় দফার ডুবচরে ফেরি আটকে যাওয়া ও তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে মাওয়া ও কাওরাকান্দি ঘাটে এবার চিরাচরিত যানজট দেখা যাচ্ছে না। যানবাহন যা আসছে সঙ্গে সঙ্গে ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদ-দাতা জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রী পারাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও নানা প্রতিবন্ধকতায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট নৌ-রুট ছেড়ে বিকল্প চ্যানেলে ইচ্ছামাফিক ফেরি চালাতে গিয়ে দুইটি রো-রো ফেরি ডুবোচরে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে থাকে। পরে ফেরি দুটিকে উদ্ধারকারী জাহাজ দিয়ে দৌলতদিয়া নেয়া হয়। বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারা জানান, এ রুটের দৌলতদিয়া পয়েন্টে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং চালিয়ে প্রায় ৪শ’ মিটার প্রস্থ চ্যানেল তৈরি সত্ত্বেও ভুল পথে চালানোর কারণে ডুবোচরে ফেরি আটকে যাচ্ছে। তবে ফেরি কর্মকর্তারা জানান, নদীতে অত্যধিক পলি জমে ড্রেজিংকৃত বিকল্প চ্যানেল দ্রুত ভরাট হওয়ায় পূর্বের চ্যানেলে ফেরি চালানো হচ্ছে। দৌলতদিয়ায় শত শত যানবাহন গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, দফায় দফার ডুবচরে ফেরি আটকে যাওয়ায় গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটের ৩টি টার্মিনাল উপচে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারি পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। পরিবহনগুলো রাজধানীগামী হওয়ায় তা বেশিরভাগই ছিল যাত্রীশূন্য। মাওয়ার ভিন্ন চিত্র মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মাওয়াঘাটে এবার ভিন্ন চিত্র। চিরাচরিত যানজট এবার নেই। ফেরি ও স্পিডবোটগুলোকে প্রায়ই গাড়ি ও যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লঞ্চ ঘাটে কিছু যাত্রী উঠানামা করলেও ফেরি ঘাট প্রায় ফাঁকাই থাকছে। প্রতি ঈদে এ ঘাট থাকে তীব্র যানজট। কিন্তু এবার থেমে থেমে ছুটি পাওয়ায় যাত্রীরা যে যার মত বাড়ি ফেরায় মাওয়া ঘাটে যানজট নেই। বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া অফিসের ম্যানেজার (বাণিজ্য) সিরাজুল হক জানান, ঘাটে গাড়ি নাই। এই সুযোগে ১০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরের ছনবাড়িতে অপেক্ষমাণ পণ্যবাহি ট্রাক পার করেছি। এবারের ঈদ যেনো অন্যরকম হতে যাচ্ছে। যানবাহনেরও তেমন চাপ নেই, পাশাপাশি লঞ্চ ও সিবোটে তেমন ভিড় দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, দীর্ঘ ছুটির কারণে লোকজন ধাপে ধাপে বাড়ি যাচ্ছে। শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, রবিবার দুপুরের পর থেকে মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট করে আসা যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। বিকালে এ রিপোর্ট লেখা সময় কাওরাকান্দি ঘাট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তায় ঢাকামুখী যানবাহনের জট ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনদিন যানজট নেই কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত শুক্র, শনি ও রবিবার এই তিন দিন ধরে দেখা যায়নি যানজটের ভয়াবহতা। বদলে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে ভোগান্তির চিত্র। জেলার আঞ্চলিক সড়কেও নির্বিঘ্নে চলছে যানবাহন। ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে না আগের মতো দুর্ভোগ। যাত্রীদের মাঝে খানিকটা হলেও ফিরে এসেছে স্বস্তি। মহাসড়ক জুড়ে রয়েছে পুলিশের কঠোর নজরদারী, বসানো হয়েছে পুলিশের চেক পোস্ট। গতকাল রবিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে যানজটমুক্ত মহাসড়কের এমনই চিত্র দেখা গেছে। এদিকে ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত এবং কেউ কেউ দ্বিগুণ ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ একেবারে অস্বীকার না করে পরিবহন নেতারা জানান, ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় যাওয়ার পথে যাত্রী তেমন থাকে না, তাই আসা-যাওয়ার খরচ পুষিয়ে নেয়ার জন্য কেউ কেউ হয়তো কিছু বেশি ভাড়া আদায় করে থাকতে পারে। ছুটিতে বাড়ি ছুটছে মানুষ গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ঈদ আনন্দ স্বজনদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে গাজীপুরে কর্মরত গার্মেন্টস, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ গাজীপুর ছাড়ছে। রবিবার ভোর থেকেই জেলার বিভন্ন সড়ক-মহাসড়ক ও রেল পথগুলো হয়ে মানুষ নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গত দু’দিনের তুলনায় রবিবার জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এবং জয়দেবপুর রেল স্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ ছিল অনেক বেশি। শত শত মানুষকে ট্রেনে বাড়ি ফেরার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে ট্রেনের ভেতরে স্থান না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। জয়দেবপুর জংশনের মাস্টার জিয়া উদ্দিন সরদার জানান, গত দুই দিনে সমস্যা না হলেও রবিবার থেকে সিডিউলে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।