দুয়ারে খুশির ঈদ, নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৩
ঈদে স্বজনদের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন কিংবা লঞ্চঘাটে গতকাল রবিবারও ছিল জনসে াত। সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ভোর থেকেই হয়ে ওঠে লোকে-লোকারণ্য-উত্সবমুখর। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার অথবা বুধবার হতে পারে ঈদ-উল ফিতর। তাই গত বৃহস্পতিবার ঘরে ফেরা শুরু হলেও গতকাল শেষ কর্মদিবসে ছিল সর্বত্র উপচেপড়া ভিড়। ঘরমুখো মানুষের কারণে ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। নেই নাগরিক ভোগান্তি। তবে ঘরমুখো মানুষের চাপে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যানজট। গতকাল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজ ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিমি যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে ইপিজেড পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১০ কিমি যানজটের। সকাল থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনের সর্বাত্মক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা একযোগে ছুটি হওয়ায় এ যানজটের সৃৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা ১১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সাধারণত আড়াই-তিন ঘণ্টা সময় লাগলেও এখন লাগছে ৬/৭ ঘণ্টা। দাউদকান্দির পর অন্তত ১২টি পয়েন্টে থেমে থেমে সৃষ্টি হয় যানজট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বাস কাউন্টারে প্রচণ্ড ভিড় :ঘরে ফেরার জন্য গাবতলী-মহাখালী ও সায়েদাবাদের বাস কাউন্টারগুলোয় গতকাল ছিল প্রচণ্ড ভিড়। সবার লক্ষ্য ঘরে ফেরা; কিন্তু টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ঘুরেছেন যাত্রীরা। তবু টিকিট পাননি অনেকেই। গাবতলী টার্মিনাল সূত্র জানায়, অনেক পরিবহন এখন আর টিকিট বিক্রি করছে না। বিশেষ করে ছোট পরিবহন কোম্পানিগুলো টিকিট বিক্রি করছে না। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতা সালাউদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, এবার অনেকটা স্বস্তিতে যাত্রীরা ঘরে ফিরতে পারছে; কিন্তু রবিবার থেকে জনসে াত বেশি হওয়ায় পরিবহনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। মহসড়কেও ছিল তীব্র যানজট। কমলাপুরে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় গতকাল সকাল থেকে একের পর এক ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হয়। নির্ধারিত সময়ে কমলাপুরে ট্রেন ফেরত না আসায় সিডিউল ঠিক থাকছে না ট্রেনের। আর এতে রেলস্টেশনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরগামী যাত্রীরা। গতকাল সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৩০টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীগামী ধূমকেতু ও চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী যথাক্রমে তিন ঘণ্টা ও দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। কোনো কোনো ট্রেন ছাড়তে আধঘণ্টা, পৌনে একঘণ্টাও বিলম্ব হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই মারাত্মক সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। রাজশাহীগামী সিল্কসিটি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি বিকাল সাড়ে ৫টার পর কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। এই ট্রেনের যাত্রীরা প্লাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। এ ব্যাপারে রেলে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, সিল্কসিটি ট্রেনটি শনিবার কমলাপুর থেকে দেড়ঘণ্টা বিলম্ব করে ছেড়ে যায়। আবার রাজশাহী থেকে বিলম্ব করে রওয়ানা হয়েছে। পথে পথে অতিরক্ত সময় যাত্রা বিরতির কারণে সিডিউল বিপর্যয় বলে জানান তিনি। স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বেশ কয়েকজন জানান, স্টেশনের ভেতরে বাথরুম না থাকায় চরম অসুবিধা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণী যাত্রীদের জন্য ভিআইপি রুমে বাথরুম থাকলেও সাধারণ যাত্রীরা তা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে না। স্টেশন মাস্টার ও ম্যানেজার কক্ষের বাথরুম দুইটিতেও তালা দেয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ছাড়া কেউ তা ব্যবহার করতে পাচ্ছে না। পাবলিক টয়লেট স্টেশনের বাহিরে হওয়ায় যাত্রীরা তা ব্যবহার করতে পাচ্ছেন না। স্টেশনের ভেতর সাধারণ যাত্রীদের পৃথক টয়লেট থাকা জরুরি স্বীকার করে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, সাধারণ যাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট জরুরি, স্টেশনের ভেতর সাধারণ যাত্রীদের টয়লেট স্থাপন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করবেন বলেও তিনি জানান। রেলওয়ে মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের বাধা দেয়া হলেও ট্রেনের ছাদে উঠা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। সদরঘাটে মানুষের জট হয়রানি ঢাকা নদী বন্দর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে লঞ্চ যাতায়াত করে। কম ভাড়ায় আরামদায়ক ভ্রমণ করা যায় এসব লঞ্চগুলোতে; কিন্তু ঈদে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। ঈদ যাত্রায় টিকিটের নামে যাত্রীদের হয়রানি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন লঞ্চ কাউন্টার থেকে যাত্রীদের বলা হচ্ছে, টিকিট শেষ হয়ে গেছে। লঞ্চের কেবিনের টিকিট নিয়েও চলছে লুকোচুরি। সদরঘাটের লঞ্চকর্মীরা দাবি করেছেন, অধিকাংশ লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে অনেক আগেই। গতকাল দুপুর পড়তে না পড়তেই সদরঘাটে উপচে পড়ছে ঘরমুখী মানুষের মিছিল। উপচে পড়া এই ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিতরা। নির্দিষ্ট লঞ্চ খুঁজে পেতে যাত্রীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এই যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের সহযোগিতার দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে কোনো সাহায্যই তারা পাচ্ছেন না। এদিকে ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখী মানুষগুলোকে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ম পরিচালক সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোনো লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। লঞ্চের ছাদে তো কিছু মানুষ যাবেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি- কোন লঞ্চ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে পারে।’