প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সর্ববৃহত্ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগায়। এ বছর অনুষ্ঠিত হবে ১৮৭তম জামাত। ঈদের জামাতের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে ঈদগা পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে।
মাঠে লাইন টানা, মিম্বরের চুনকাম, মাঠে বালু ভরাট, বাউন্ডারি দেয়ালে চুনকাম ইত্যাদির কাজ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিল। স্থায়ী ওজুখানার পাশাপাশি লাখো মুসল্লির ওজু ও পানীয় জলের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পর্যাপ্ত নলকূপ স্থাপন করেছে। সংলগ্ন বড় পুকুরের চারি পার্শ্বে ছোট ছোট মাচা বেঁধে দিয়েও ওজু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃষ্টির জন্য মাঠে ছোট ছোট নালা তৈরি করে পানি সরে যাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার ভোররাতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাঠ কিছুটা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। তবে আগামি দুইদিন বৃষ্টিপাত না হলে মাঠ শুকিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার দুপরে ঈদগায় গিয়ে দেখা যায়, ভিআইপিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য সামিয়ানা টানানোর কাজ চলছে।
কিশোরগঞ্জ শহরে যেন ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে দুই-তিন দিন আগে থেকেই লোকজন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। তাছাড়া শোলাকিয়ার জামাতে শরিক হবার জন্য আশেপাশের এলাকা থেকে আত্মীয়-স্বজনও কিশোরগঞ্জে আসতে শুরু করেছে। ঈদকে স্বাগত জানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। আলোকসজ্জারও ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। রেলওয়েসূত্র জানায়, ঈদের দিন মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুইটি স্পেশাল ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি ট্রেন ঈদের দিন ভোর ৬টায় ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে সকাল ৮টায় এসে পৌঁছবে এবং বেলা ১২টায় পুনরায় ভৈরববাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। অপর ট্রেনটি পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে এবং বেলা ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। চার স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থায় র্যাব ও পুলিশ অংশ নেবে।
শোলাকিয়া ঈদগা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদরের ইউএনও সুব্রত পাল জানান, ঈদগার সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন প্রায়। আগের দিন আসা মুসল্লিদের জন্য ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শোলাকিয়া ঈদগায় নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মুসল্লিরা আশেপাশের বিভিন্ন মসজিদে এসে উঠেছেন। এবছর জামাতে ইমামতি, খুতবা পাঠ ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও সকাল পৌনে দশটা থেকে চ্যানেল আই শোলাকিয়া ঈদগা থেকে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল দশটায়। রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর ঠিক ১৫ মিনিট আগে তিনবার, পাঁচ মিনিট আগে দুইবার ও ঠিক এক মিনিট আগে একবার বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণে মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
বাঘায় দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাত
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদাতা, যদি বলা হয় দেশে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত কোথায় অনুষ্ঠিত হয়। এক বাক্যে সবাই বলবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। এরপর যদি বলা হয় ঈদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত কোথায় অনুষ্ঠিত হয়। তবে এটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। তবে বাঘা ও আশেপাশের মানুষ একবাক্যে বলবেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বাঘা শাহী মসজিদে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে এখানে লোকজন ঈদের নামাজ পড়তে আসেন। একই সাথে এখানে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ওরস ঈদ মেলা। মেলাকে কেন্দ করে লোকে লোকারণ্য হয় পুরো বাঘা। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে দ্বিতীয় এই বৃহত্তম জামাতের প্রস্তুতি শেষ হবে।
এদিকে দ্বিতীয় এই বৃহত্তম ঈদের জামাতকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষের পর্যায়ে। আয়োজক কমিটির লোকজনসহ বাঘা মাজারের মোতোয়াল্লি খন্দকার মনছুরুল ইসলাম বলেন, বাঘায় যে ঈদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয় এতে কোন সন্দেহ নাই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে ঈদের নামাজ পড়তে আসে। এদের অনেকে ওরস পর্যন্ত অবস্থান করে।
