কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধারের সংখ্যা। গত ১৩ বছরে জেলার ১৬টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৭১৭টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে বিভিন্ন আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা। উদ্ধারকৃত লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলেও পরবর্তীতে এসব লাশের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। এদিকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা মুসলিম সম্প্রদায়ের লাশ দাফনের জন্য নির্ধারিত সিটি কর্পোরেশনের অধীন একমাত্র টিক্কারচর কবরস্থান দীর্ঘ দিন যাবত্ সম্প্রসারণ না করায় অজ্ঞাত লাশের জন্য কবর খননে বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামী জনকল্যাণ সংস্থা ‘আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম’ কুমিল্লা শাখা কর্তৃপক্ষ।
জেলা আঞ্জুমান কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম জানান, বিগত ২০০১ সাল থেকে চলতি অর্থ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিগত ১৩ বছরে ১ হাজার ৬৭৪টি অজ্ঞাত পুরুষ, মহিলা ও শিশুর লাশ গ্রহণ ও দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিগত ২০০১-০২ অর্থ বছরে ১৩৮ জন, ২০০২-০৩-এ ১৩৫ জন, ২০০৩-০৪-এ ১৪৩ জন, ২০০৪-০৫-এ ১২৭ জন, ২০০৫-০৬-এ ১৩৩ জন, ২০০৬-০৭-এ ১৫৩ জন, ২০০৭-০৮-এ ১২৭ জন, ২০০৮-০৯-এ ১২০ জন, ২০০৯-১০-এ ১১৪ জন, ২০১০-১১-এ ১৪৯ জন, ২০১১-১২-এ ১২০ জন, ২০১২-১৩-এ ১০৫ জন এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ১১০টি অজ্ঞাত লাশ দাফন করা হয়েছে।
এছাড়া হিন্দু সত্কার সংঘের সাধারণ সম্পাদক কানু দত্ত জানান, এসময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ কর্তৃক সরবরাহকৃত ৪৩টি অজ্ঞাত লাশ নগরীর ঠাকুরপাড়াস্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানে সত্কার করা হয়েছে। অধিক হারে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী জানান, অপরাধীরা প্রায়শ অন্য জেলা থেকে খুন করে লাশ নদী কিংবা মহাসড়কের পাশে ফেলে যায়, তাই এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তবে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের পর এর ছবি সংরক্ষণে রেখে তা অন্যান্য থানায় প্রেরণ, পত্রিকা ও পুলিশের বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রকাশের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে।
