নড়াইলের চিত্রা, নবগঙ্গা, কাজলা নদীর পানিতে পচন শুরু হয়েছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারো পানি পচে মাছসহ কয়েক কোটি টাকার জলজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য মত্স্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় দুই যুগেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে প্রতিনিয়ত পানি পচে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। সেই সঙ্গে মত্স্য ও জলজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
নড়াইলের চিত্রা নদীর পানি দুই যুগ ধরেই দূষণের শিকার। ফলে এর শাখা নদী নবগঙ্গা ও কাজলার পানিও দূষিত হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দূষণের কারণে এ সকল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ৫২টি খাল ও ৩১টি বিলও দূষণের কবলে পড়ে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বিশেষ করে জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে পানি পচার কারণে উল্লেখিত নদী, খাল, বিল দেশি মাছসহ জলজ সম্পদ শূন্য হয়ে পড়ে। মাছের ভরা মৌসুমেও এ অঞ্চলে দেশি মাছের আকাল দেখা দেয়। সরেজমিনে দেখা যায়, নড়াইলের চিত্রা নদীর পানির মূল প্রবাহ মাগুরা শহরের ওপর নির্মিত বাঁধের কারণে থেমে গেছে। এছাড়া মাগুরা বাঁধের উত্তর পাশের চিত্রা নদীতে মাগুরা শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেনসহ সকল নর্দমার বর্জ্য বছরের ৬ মাস জমা করে রাখা হয়। পরে বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ আসলে এ সব বিষাক্ত বর্জ্য মাগুরা বাঁধের গেটের মুখ খুলে চিত্রা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। আর এই বিষাক্ত বর্জ চিত্রা নদীর শাখা নদী নবগঙ্গা ও কাজলার পানিতে মিশে গিয়ে বিভিন্ন খাল-বিল-বাঁওড়ে প্রবেশ করে। ফলে এসব খাল-বিল-বাঁওড়ের মাছ ও জলজ সম্পদ থেকে শুরু করে কচুরিপানা ও জলজ আগাছা পর্যন্ত পচে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়ায়। খাল-বিল-বাঁওড়ের পাশে বসবাসরত লোকজনের শরীরে ঘা, পাঁচড়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এছাড়া চিত্রা নদীর বিভিন্ন এলাকায় পাট জাগ দেয়ার ফলেও পানিতে পচন হয়।
এলাকাবাসী ও মত্স্যজীবীরা মত্স্য, জলজ সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার্থে মাগুরা শহরের ওপর নির্মিত বাঁধ অপসারণ করে অবাধ মিঠা পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ ও নদী, খাল, বিল এবং বাঁওড়ের পানি পচন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
