দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে নিহত ৩ আহত ১৯৩

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:০৬
বিভিন্ন ঘটনায় দেশের নানা জায়গায় সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ১৯৩ জন আহত হয়েছে। রিপোর্ট ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। দশমিনা (পটুয়াখালী) ঈদ ছুটিতে পটুয়াখালীর দশমিনায় হামলা-সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সানকিপুর গ্রামের নুরুল হক (১৮), উত্তর আদমপুরের উজ্জল চন্দ্র শীল (১৮), বহরমপুরের মিরাজ (২০), মাছুয়াখালীর রেহেনা বেগম (২৫), গছানীর রাসেল (২০) ও বড়গোপালদী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (২৫) জমি-জমা ও পারিবারিক শত্রুতার জেরে হামলা সংঘর্ষে আহত হয়। আহতদের রবিবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লোহাগড়া (নড়াইল) নড়াইলের লোহাগড়ার কামঠানা গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মহিলাসহ ৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় প্রতিপক্ষরা দুটি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। আহতরা হলেন কামঠানা গ্রামের ইমরুল (২৫), সবুজ শেখ (২৮), জুলি বেগম (৩০), রুবেল (২৫) ও ইনামুল (৩৫)। আহতদের লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কামঠানা গ্রামের সাইফুল শেখ জানান, ইনামুল শেখ মিকাইলের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে পৌরসভার মোচড়া গ্রামের মিকাইলে নেতৃত্বে ৬/৭ মিলে তাদের বেধড়ক মারপিট করে। চান্দিনা ও বুড়িচং কুমিল্লার বরুড়ায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে। উপজেলার খোশবাশ (উঃ) ইউনিয়নের দেওয়ান নগর শাহী ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ শেষে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন পাওনাদার রফিকুল আলম, শাহ আলম, ইকরাম হোসেন রানা, রিয়াজ ও শাহজালাল। এরা সকলেই দেওয়ান নগর গ্রামের বাসিন্দা। মান্দা (নওগাঁ) নওগাঁর মান্দা উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পুলিশ ভটভটি চালাতে বাধা দেওয়ায় ভটভটি চালক ও পুলিশের সংঘর্ষে এক ভটভটি চালক গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মান্দা উপজেলার নওগাঁ রাজশাহী মহাসড়কের ফেরিঘাট চৌরাস্তার মোড়ে। পুলিশ মহাসড়কে ভটভটি চালাতে বাধা দেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার দরদরা ঈদগাহের সীমানা বিরোধের জেরে বল্লমের ঘায়ে বাবুল মিয়া (৩৫) নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি দরদরা গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে প্রকাশ, বাবুল মিয়ার ৬ ফুট জায়গা ঈদগা পরিচালনা কমিটির লোকজন জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার ঘটনায় গত ঈদুল ফিতরের দিন দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। বৃহস্পতিবার দরদরা পাইমারি স্কুল মাঠে এ নিয়ে সালিশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু দরবারে বাবুল মিয়ার পক্ষের কেহ উপস্থিত না থাকায় দরবারের উপস্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাবুল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় এবং বল্লম ছুঁড়ে মারলে বুকে বিদ্ধ হয়ে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পাকুন্দিয়া থানার ওসি জাকির রব্বানী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) উপজেলার শিন্নিরচর গ্রামে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কাদের বেপারী গ্রুপের সাথে রব বেপারী গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ৯ জন আহত হয়। আহতরা হলেন কাদের বেপারী, জালাল বেপারী, বাশার বেপারী, গনি বেপারী, বিলকিছ বেগম, ফারুক হাওলাদার, রফিক বেপারী, খোরশেদ বেপারী, মাসুদা বেগম, রব বেপারী। আহতদের মেহেন্দিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। শ্রীপুর (মাগুরা) এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরে মাগুরার শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে এবং সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের ২০টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও প্রায় অর্ধশত রাউন্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে। আহতদের মধ্যে তপুর আলীকে (৩৫) ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল ও সোনা মুন্সী (৪৮), বাসি মোল্লা (৪০), বিসে মন্ডল (৪০), কামাল সেখ (৪৫), সাগর (১৫), সাহেব (৪৬) ও জামাল সেখকে (৪৭) মুমূর্ষু অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চাঁদপুর ও মতলব উত্তর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দিতে ঈদের জামাতের ইমামতিকে কেন্দ্র করে হামলায় নিহত ১ ও আহত হয় ৩০ জন। সম্প্রতি ঈদ উল ফিতরের দিন পীরজাদা শায়খ মাশউদ আহমদের ইমামতিতে প্রথম জামাত শেষে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আমেরিকার প্রবাসী বর্তমান পীর শায়খ মুস্তাক আহমদের লোকজন লাঠি সোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পিছন দিক থেকে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার স্বীকার স্থানীয় তফাদারপাড়া গ্রামের মনু মোল্লার ছেলে দর্জি কারিগর রফিকুল ইসলামকে (৩২) ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। হামলায় গুরুতর আহত শাখারীপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এছাড়া চাঁদপুর সদর ও মতলব সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে ঠাকুরপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন (৩৭), নয়াকান্দি গ্রামের নজির আহম্মদ (৪৩), শাখারীপাড়া গ্রামের জসিম ভুঁইয়া (৩৫), স্বপন মোল্লা (৩৬), তফাদারপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ (৫৫), নুর মোহাম্মদ (৬২), ঠাকুরপাড়া গ্রামের শরীফ উল্যাহ (৪২), ফরাজীকান্দি গ্রামের সিরাজ মিয়া (৫৫)। আর তফাদারপাড়া গ্রামের খোরশেদ মাঝি (৫২), ঠাকুরপাড়া গ্রামের সফিক বেপারী (৪৮), তফাদারপাড়া গ্রামের কবির হোসেন (৩৫), ওয়াসিম (৩০), শাখারী আব্দুল গনি (৪৬), হিমেল (২২), হাজিপুর গ্রামের কালু মিয়া (৩২) সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা নেয়। নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গত দু’দিনে পৃথক পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৬ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ এবং অপর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। জানা যায়, ঈদের দিন মঙ্গলবার বিকালে নবীগঞ্জ পৌরসভার রাজাবাদ (কান্দিপাড়া) এলাকায় জসিম উদ্দিনের শিশু বাচ্চা এবং একই গ্রামের ইসমত আলীর শিশু বাচ্চাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকদের মাঝে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাহাব উদ্দিনকে (৬২) সিলেট প্রেরণ এবং অপর আহত কদবানু বিবি (৬০), ইসমত আলী (৪০), জয়নাল আবেদীনকে (৩৮) নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) শিবগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত ও ৪/৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও কয়েকটি বিদ্যুত্ মিটার নষ্ট হয়েছে । মনাকষা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের রুহুল বনাম ইসাহাক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে রুহুল গ্রুপের রুহুল, সেরাজুল, মিজানুর, আনারুল মানিক, সেরাজুল রুবেল সহ ৮/৯ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে রুহুল, সেরাজুল ও রুবেলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাদের পরিবার জানায়। অন্যদিকে ইসহাক গ্রুপের মোসাঃ বুড়ি বেগম, কারিনা বেগম, মাবিয়া বেগম, হাসান, ইসহাক, বইরুলসহ প্রায় ৭ জন আহত হয়েছে। ইসহাক জানান আমাদের ৯টি মিটার, ৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও প্রায় ৫ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। গোপালগঞ্জ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় ৩/৪টি বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে মুকসুদপুর উপজেলার গঙ্গারামপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মারাত্মক আহত ১০ জনকে গোপালগঞ্জ ও রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হান্নান মল্লিক ও হানিফ মল্লিকের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই দু’ পক্ষের লোকজন বুধবার সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সর্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ানী গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দু’ গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া লুটপাট, ভাংচুর, সংঘর্ষে নিহত হয়েছে হানজাল মিয়া (৪৫) ও আহত হয়েছে ১২ জন। টেটাবিদ্ধ গুরুতর আহত অবস্থায় হারুন মিয়াকে (৬০) বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর ঢাকা প্রেরণ করা হয়। গত বুধবার সকাল ৯টায় দক্ষিণ পাড়ার লোকজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছয়ানী বাজারে হামলা দিলে উত্তর পাড়ার লোকজন পাল্ট ধাওয়া করলে সংঘর্য বেধে যায় । উভয় পক্ষের সংঘর্ষে হানজাল নামে ১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয় ।