বিএনপির আন্দোলন মন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২৩:৫৯
ঈদ শেষে অফিস-আদালত খোলার প্রথম দিনে সচিবালয়ে মন্ত্রীরা সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে বিএনপির ঈদ পরবর্তী আন্দোলন নিয়ে সরকারের চিন্তা প্রকাশের ধারায় মন্ত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন মত ছিল চোখে পড়ার মতো। সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রীরা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সোজা সাপটা ভাবনা-এিনপির সঙ্গে জনগণ নেই, তাই আন্দোলন-ঠান্দোলন হবে না। মানুষ এসবের মধ্যে নেই। তারা ভাল আছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঠাণ্ডা মাথায় সাবলীল ভঙ্গিতে বলেন, বিএনপির আন্দোলন শান্তিপূণই হবে। আর ক্ষমতাসীন দলের ১৪ দলীয় শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্বভাবসুলভ জবাব এরকই ছিল যে আন্দোলন সব খানেই সবকালেই ছিল। এখনো আছে। আমরাও আন্দোলন করেছি। আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার। আন্দোলন নিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর কিছু নেই। আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য কিছুটা গরমই বলতে হবে। সরাসরি তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় যত কঠোর হতে হয় সরকার হবে। ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বুধবার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে জানান, তারা নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নিয়ে এগোতে চান। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও মাঠে থাকার পাল্টা ঘোষণা দেয়ায় জনগণের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এরও আগে গত শনিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ‘মাঠে নামুক না, আমার আওয়ামী লীগ আছে। জনগণ আছে। মাঠের খেলা মাঠেই হবে।’ সৈয়দ আশরাফ: দুই নেত্রীর এসব বক্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আন্দোলন করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা তা করতে পারে। ইতিমধ্যে তারা ঘোষণা দিয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে। আশা করি তারা সেভাবেই তা করবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে সংঘাতের কোনো আশঙ্কা দেখছি না। জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগের ‘মাঠে থাকার’ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরপরই ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস। আমাদের দল শোক দিবস নিয়েই ব্যস্ত।’ মানুষ বিএনপির পিছনে নেই: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মানুষ পিছনে থাকলে আন্দোলন হয়, না থাকলে আন্দোলন হয় না। বিএনপির পিছনে মানুষ নেই। মুহিত বলেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে জনাব মুহিত বলেন, এখন মানুষ ও স্টেক হোল্ডারের সংখ্যা এত বেড়েছে যে, সবাই এখন কর্মব্যস্ত। স্টেক হোল্ডাররা এখন নিজেদের স্বার্থেই কোনো আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন দেবে না। আর আন্দোলন হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না-জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন হলে মানুষ যদি চলাচল করতে না পারে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি না হয়, তাহলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বেই। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু: পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর মতে, আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতিটি মানুষের নিজ ঘরেও আন্দোলন হয়-বাইরেও হয়। ব্যক্তিজীবনও আন্দোলনের ঊর্ধ্বে নয়। নিজেদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। বিএনপির ভুলের মাশুল জনগণ দেবে না: নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত ছিল মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আন্দোলনের নামে তারা নিজেদের ভুলের মাশুল জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। তিনি আশা করেন, অহেতুক নিজেরদের ভুলের মাশুল জনগণের উপর চাপিয়ে দেবে না বিএনপি। যারা আন্দোলনের কথা বলছেন তারা গত বছরও আন্দোলনের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, সেটাও জনগণের আন্দোলন ছিল না। সে আন্দোলনে মানুষ খুন হয়েছে, পরীক্ষা, লেখা-পড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ স্বস্তি ও শান্তিতে আছে। তাই মানুষ নিরাপদে চলাফেরার অধিকার রাখে। যদি এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও মাঠে থাকবে। তখন দেখব কার কত হিম্মত।’ গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘আমরা নগরবাসী’ আয়োজিত ঈদ আনন্দ র্যালিপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, আজ থেকে দেশবাসী শোকের মাস হিসেবে পালন করবে। এই শোকের মাসে বিএনপি আন্দোলনের কথা বলছে। আন্দোলনের নামে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের মতো জ্বালাও-পোড়াও, পেট্রোল ঢেলে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যা যা দরকার, সরকার তাই করবে।