বিপুল তারুণ্য ও বিশাল মানবসম্পদের বিনিয়োগ হতে পারে দেশের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। যুব সমাজকে যথাযথ কাজে লাগিয়ে আগামীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করার দিকে নজর দিতে হবে। যেসব সেক্টরে এখন দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে, সেইসব সেক্টরের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে তাদেরকে বিনা অর্থে উত্পাদনমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সুদবিহীন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং ভূমিহীনদের মাঝে ভূমির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে তাদের জন্য দ্রুত কর্মসংস্থানের পথ সুগম করা।
যেহেতু বিশাল মানবসম্পদই আমাদের বড় শক্তি—তাই দেশের সার্বিক অগ্রগতির স্বার্থে এই শক্তিকে যে কোনো উপায়ে হোক কাজে লাগাতে হবে। মূলত তাদেরকে অধিক রফতানি ও উত্পাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মানবসম্পদকে দেশ ও বহির্বিশ্বে চাহিদামাফিক কাজের জন্য উপযোগী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। সে সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে তাদের সার্বিক অধিকারও। দক্ষতার অভাবই হচ্ছে আমাদের দেশের শিক্ষিত যুবসমাজের কাজ বা চাকরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায়। সেজন্য বাস্তব ও উত্পাদনমুখী যুগোপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কৃষিশিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে। মনে রাখতে হবে দক্ষ মানবসম্পদই অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার।
দেশে এখনো অনেক সেক্টর রয়েছে, যেখানে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে প্রায় শুরু থেকেই। ফলে এইসব সেক্টরে কর্মরত বিদেশি দক্ষ শ্রমিকরা প্রতি মাসে মজুরি বাবদ কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে তাদের দেশে। কিন্তু যদি এইসব সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও তাদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়, তবে বিদেশিদের মজুরি বাবদ প্রদানকৃত অর্থ দেশেই থেকে যাবে। তাই সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে এইসব সেক্টরের উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণদের দ্বারা নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোসহ সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকীকরণ, অধিক ভোকেশনাল ও পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, অকৃষিবিষয়ক উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের অধিক শিল্প প্রসার ও তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, জনশক্তি রফতানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ইংরেজি শিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারকরণ, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালীকরণ, পরিবেশের দূষণরোধে যুবসমাজকে সম্পৃক্তকরণ, প্রতিটি গ্রামকে এক একটি উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণতকরণ, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, উত্পাদন ও রফতানিমুখী অধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুবসমাজকে উত্সাহ বাড়ানোর পাশাপাশি সুদবিহীন ব্যাংকঋণের ব্যবস্থাকরণ, পরিকল্পিত নগরায়ন, সহযোগিতামূলক সামাজিক নীতি প্রণয়ন, ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বিতরণ, সকল ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিতকরণ, সুদবিহীন ক্ষুদ্রঋণের প্রসার সাধন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ তরুণদের অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, পরিমিত ছোট পরিবার রাখতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া।
এ কথা সত্য যে আমাদের সীমিত সম্পদ, সরকারের সক্ষমতা, সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দলীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন, প্রতিটি সেক্টরে দক্ষ জনবলের স্বল্পতা, দুর্নীতিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য থেকে কোনো সরকারের একার পক্ষে রাতারাতি অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। কিন্তু যদি সদিচ্ছা থাকে তবে যত কঠিনই হোক তা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করি। যেহেতু আমাদের বিপুল তারুণ্য ও মানবসম্পদ দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য বিরাট সম্ভাবনার ক্ষেত্র।
ঢাকা
