পেছনে ফেলে আসা গ্রামের মেঠোপথ। ফেলে আসা আপনজনের মধুর স্মৃতি, সব কিছুকে পেছনে ঠেলে সবাই এখন কর্মস্থলমুখী। জীবিকার তাগিদে শেকড়ের টানে ছেদ ঘটিয়ে পিচঢালা পথ আর কংক্রিটের দেয়ালে ঘেরা ঢাকা শহরে ফিরছে মানুষ। শহুরে ছকবাঁধা জীবনের ক্লান্তি ভুলতে গ্রামের সবুজ-শ্যামল পরিবেশে কাটানো হলো ঈদের ছুটি। এখন থেকেই তারা বনে যাবেন কর্মজীবী এবং কর্মব্যস্ত মানুষ।
ছোট্ট শিশু কলি হয়তো সেটা বোঝে না। বোঝে ঈদ এলে দাদা-দাদীর সান্নিধ্য আর মমতার পরশ। সেই পরিবেশে চট্টগ্রামে গ্রামের বাড়িতে পাঁচ দিন কাটিয়ে ফিরেছে ঢাকায়। ট্রেন থেকে নেমে প্লাটফর্ম ধরে হেঁটে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। এরমধ্যে কলি তার মায়ের কোলে চড়ে ফিরছে ঘরে। জানতে চাইলে আলতো মুখে আধো আধো ভাষায় কী যেন বললো। মা হোসনে আরা বেগম তার ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, দাদা বাড়ি নানা বাড়ি ঘুরেছে-বেশ ভালো লেগেছে এমন কথাই সে বলেছে। কলির মা জানালেন, ভিড় এড়াতে আগেভাগেই চলে এসেছেন তারা।
স্টেশনে অবস্থান করে দেখা গেছে, কমলাপুরে গতকাল শুক্রবার কোনো যাত্রীচাপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করছে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা মানুষের ঢল ততটা দেখা না গেলেও শনিবার যাত্রীর চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রী বাড়লেও সিডিউল বিপর্যয়ের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানালেন রেলের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কেউ কেউ আগে ফিরছেন। কেউ শনিবার ঢাকায় এসে রবিবার কর্মস্থলে যোগ দেবেন। এজন্য ভিড় হচ্ছে না ততটা।
স্টেশন ম্যানেজার খায়রুল বশীর জানান, যাত্রীর চাপ সামাল দিতে আরও চারদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চলবে।
সদরঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে
এদিকে সদরঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। ঈদের ছুটিতে যাওয়ার সময় সদরঘাটের সেই ভোগান্তি আসার সময়ও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার যাত্রীদের চাপ কম থাকলেও গতকাল শুক্রবার থেকে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে সদরঘাটে।
শুক্রবার সকালে সদরঘাট দিয়ে রাজধানীতে ফেরা মানুষের পদভারে দিনভর মুখর ছিল পুরো টার্মিনাল এলাকা। আগামী রবিবার থেকে পুরো দমে অফিস-আদালত শুরু হবে।
স্বরূপকাঠি থেকে ঢাকায় আসা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, শনিবার থেকে মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ি নামবে। যে ভোগান্তিতে গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়েছে সেই ভোগান্তিতে রাজধানীতে ফিরতে হবে। তাই একদিন আগেই চলে এসেছি। কিন্তু ভোগান্তি আমাদের ছাড়ে নাই।
স্বর্ণদ্বীপ লঞ্চ কাউন্টারের ম্যানেজার আতিক জানান, গত দুইদিনের চেয়ে আজকে যাত্রী একটু বেশি। শনিবার থেকে যাত্রীদের চাপ আরো দুইগুণ হবে।
এবার ঈদের ছুটির পর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় অনেকেই শেষ দিন শনিবার পর্যন্ত বাড়িতে থাকার চেষ্টা করছেন। পুরো এক সপ্তাহ এ ভিড় থাকবে বলেও জানান তিনি।
মহিউদ্দিন আহমেদ নামে এক যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, একঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কোন সিএনজি পাচ্ছি না। দু’-একটা পেলেও আকাশচুম্বি ভাড়া চেয়ে বসছে। বাড়ি থেকে ঢাকা পৌঁছে গেছি, অথচ বাস কাউন্টার থেকে বাসায় পৌঁছা এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের অনেকেই গতকাল অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে ঢাকা আসতে পেরে খুশি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, যাওয়ার সময়ের চেয়ে এখন বেশি ভাড়া রাখছে।
যাত্রীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সদরঘাট টার্মিনালের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুর রহমান বলেন, আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবুও দু’-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এজন্য যাত্রীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। তবে আমাদের চেষ্টায় কোন ত্রুটি নেই।
