আড়াই মাস অচল চট্টগ্রামের ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৫
পূর্ণাঙ্গ বেতন স্কেল ও সার্ভিস রুল প্রণয়ন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রোভিসি ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং বিএমডিসির নিয়ম কানুন মেনে এমবিবিএস শ্রেণিতে ভর্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে অব্যাহত আন্দোলনের মুখে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের বেসরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসটিসি)। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত আড়াই মাস ধরে বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচিসহ আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষক, চিকিত্সক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ। পরিষদ আহুত দৈনিক চার ঘণ্টা কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন। জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানে প্রচুর বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। অচলাবস্থার কারণে বহির্বিশ্বে ইউএসটিসির মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে শ্রীলংকার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউএসটিসির অনুমোদন বাতিল করেছে। সংকট নিরসনে সমপ্রতি জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিবদমান পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থেকে এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এমবিবিএস ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি, নিকট আত্মীয়-স্বজন ও আজ্ঞাবহ লোকদের দিয়ে সিন্ডিকেট গঠন ও অনিয়মিতভাবে ঢাকায় সিন্ডিকেট সভা আহ্বান, জনসেবা ফাউন্ডেশনে সাংগঠনিক সংকট ও ফাউন্ডেশনের তহবিলের হরিলুট, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ইউএসটিসির সাধারণ তহবিলে জমা না করে সরাসরি জনসেবা ফাউন্ডেশনের তহবিলে জমাকরণসহ নানা অনিয়মের কারণে ডুবতে বসেছে ইউএসটিসি। অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠলেও এ প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের উত্তরসূরীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কর্মরতদের জন্য কোনো চাকুরি বিধিমালা নেই, শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ক্লাস, হলরুমের ব্যবস্থা করা হয়নি। তারা অবিলম্বে শিক্ষক-চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো সার্ভিস রুল নেই। ১৯৯৮ সালে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাপের মুখে একটি সার্ভিস রুল তৈরি করা হলেও তা আজ পর্যন্ত প্রয়োগ করা হয়নি। এছাড়া ইউএসটিসিতে টাইম স্কেল নেই, অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা নেই, যুগোপযোগী সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পে-স্কেল নেই, সরকার ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করা হয়নি। জানা গেছে, বিএমডিসির নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করায় ইউএসটিসির তিনটি ব্যাচের সহস্রাধিক এমবিবিএস শিক্ষার্থী বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন পাননি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীরাও আইইবির অনুমোদন না পাওয়ায় পেশাগত জীবনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষক, চিকিত্সক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. কামাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কিছুদিন আগে ইউজিসির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, ইউজিসির তরফ থেকে আমাদের দাবি দাওয়াগুলোকে যৌক্তিক উল্লেখ করে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএসটিসি’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল আবছার ইত্তেফাককে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ বেতন স্কেলসহ ৬/৭টি দাবি মেনে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোন সমঝোতা চুক্তি হয়নি। আগামীকাল রবিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় সংকট নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।