যেখানে পাটের চেয়ে পাটকাঠির কদর বেশি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:০৪
নীলফামারীতে এ বছর পাটের দাম কম হলেও পাটকাঠির কদর বেড়েছে। জেলার সর্বত্র পাটের চেয়ে পাটকাঠির ক্রেতা বেশি। জানা যায়, এ বছর জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে পাট চাষ করা হয়। রোগ-বালাই ছাড়া এবারে পাটের ফলনও হয় ভালো। কিন্তু দীর্ঘ খরা ও বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারেননি। তবে অনেক কৃষক সামান্য পানিতে পাট জাগ দিয়ে পাটের রং বিবর্ণ করে ফেলেন। ফলে পাটের মান খুব একটা ভালো হয়নি। এ কারণে নিম্নমানের এসব পাটের ক্রেতা মিলছে না। জেলায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির দাম ও কদর দুটোই বেড়েছে। গৃহস্থালি বিভিন্ন প্রয়োজনে পাটকাঠি পল্লী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঘরের বেড়া, জ্বালানিতে ব্যবহূত হয় পাটকাঠি। এছাড়া সবজি যেমন, পালং শাক, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুল কপি, ডাটা, মূলা প্রভৃতি শস্য ক্ষেতের বেড়া এবং লাউয়ের মাচা তৈরিতে প্রয়োজন হয় পাটকাঠির। সৌখিন ও সচ্ছল পরিবারের ঘরের সিলিং তৈরিতে পাটকাঠি ব্যবহার হয়ে থাকে। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ও মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা একেকটি পাটকাঠির আঁটি ১০/১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। ফেরি করে এসব পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে সর্বত্র। পাটকাঠির বহুল ব্যবহার হয় জ্বালানি হিসাবে। রান্নার কাজে উনুনে আগুন ধরাতে গৃহিণীদের কাছে পাটকাঠির বিকল্প নেই। এ কারণে কৃষকরা এখন পাট বিক্রির পর পাটকাঠি সঞ্চয় করতে দেখা যায়। অপরদিকে তারা পাটকাঠি বিক্রয় করে পাট চাষের অনেকটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে।