ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনাও সেই সঙ্গে বাড়ছে। মুসলমানদের বৃহত্তম এই উত্সবকে ঘিরে দেশের সর্ববৃহত্ পাঞ্জাবির বাজার পুরান ঢাকার শরিফ মার্কেটের বেচাকেনা এখন তুঙ্গে। ঈদ মানেই নতুন পোশাকে নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে ছোট-বড় সব ছেলেদের পছন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাঞ্জাবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারাদেশের পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে শরিফ মার্কেট। এই মার্কেটের ৪৩২ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এখন সারাদেশে একযোগে পাঞ্জাবি সরবরাহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রমজানের আগ থেকেই সংগ্রহ করেছেন দেশি-বিদেশি উন্নতমানের কাপড়, সুতা, রং ও অন্যান্য সামগ্রী। কেউ কেউ নিজস্ব কারখানায় উত্পাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেও দোকানে তুলেছেন নজরকাড়া ডিজাইন ও হরেক নামের বাহারি পাঞ্জাবি। দাম কম ও কাপড়ের গুণগতমান ভালো হওয়ায় পাইকারি ক্রেতারাও লুফে নিচ্ছেন নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দেশের মোট পাঞ্জাবির চাহিদার ৮০ শতাংশই সরবরাহ করে থাকে শরিফ মার্কেট। এবার ঈদ উপলক্ষে শরিফ মার্কেট থেকে প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ৭/৮ লাখেরও বেশি পাঞ্জাবি সরবরাহ করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী এবার ঈদে প্রায় আড়াই কোটি পিস পাঞ্জাবি বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় এ মার্কেটের পাঞ্জাবি দিনরাত তৈরি করা হচ্ছে।
শরিফ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে ঈদ মৌসুমের বেচাকেনা। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কয়েক লাখ পিস পাঞ্জাবি। শরিফ মার্কেটে আসা ফেনীর ব্যবসায়ী গোলাম মোহাম্মদ বলেন, এখানকার তৈরি পাঞ্জাবি দামে সস্তা ও টেকসই হওয়ার কারণে ক্রেতাদের কাছে এর আলাদা চাহিদা রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রেতারা একটু সস্তায় পাঞ্জাবি কিনতে চায় যা শরিফ মার্কেটে পাওয়া যায়।
