উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এতটাই অসুস্থ যে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমেও আদালতের শুনানিতে হাজিরা দিতে অপারগ বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তর করা নিয়ে লন্ডনের আদালতে শুনানি হয়। আর এতেই ব্রিটেনের বেলমার্শ কারাগার থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অ্যাসাঞ্জের।
মার্কিন সরকারের বহু গোপন তথ্য ফাঁস করে ২০১০ সালের শেষের দিকে হইচই ফেলে দেওয়া অ্যাসাঞ্জকে বিচারের জন্য চায় যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের বিরুদ্ধে লড়ছেন। তার আইনজীবী গার্থ পিয়ার্স বলছেন, অ্যাসাঞ্জের অবস্থা ভাল নয়। এদিকে উইকিলিকস বলছে, অ্যাসাঞ্জকে জেলের মেডিক্যাল ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উইকিলিকসের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মুখপাত্র বলেন, “বেলমার্শ কারাগারে থেকে ৭ সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হয়েছে এবং অতি দ্রুত তার ওজন কমে গেছে।” অ্যাসাঞ্জের ডিফেন্স আইনজীবী পার সেমুয়েলসন বলেছেন, “গত শুক্রবার অ্যাসাঞ্জের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথপোকথন করাও সম্ভব ছিল না।” যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে যুক্তরাজ্য অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ওইদিন শুনানি হয়েছে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। আদালত আগামী ১২ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গত ২৪ মে নতুন ১৭টি অপরাধের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব অভিযোগের মধ্যে আছে বেআইনিভাবে গোপন সূত্রের নাম প্রকাশ করাসহ গোপন তথ্য পেতে সাবেক সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্র এবং তাকে সহায়তা করা। ২০১০ সালে লাখ লাখ মার্কিন কূটনৈতিক নথি ও সামরিক গোপন নথি ফাঁস করে উইকিলিকস। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য ফাঁস করতে চেলসি ম্যানিং অ্যাসাঞ্জকে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এখন বাড়তি ১৭টি অভিযোগ নিয়ে মোট ১৮টি অপরাধের অভিযোগের মুখে আছেন অ্যাসাঞ্জ। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কয়েকদশকের জেল হতে পারে।
জামিনের শর্ত ভঙ্গ এবং সাত বছর লন্ডনের ইকুয়েডরের দূতাবাসে অবস্থান করায় এ মাসের শুরুতে অ্যাসাঞ্জকে ৫০ সপ্তাহ কারাদণ্ড দিয়েছে লন্ডনের আদালত।
