নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন আইনানুযায়ী বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে আরো এক মাস সময় পাচ্ছে সময় চেয়ে আবেদন করা ১২টি রাজনৈতিক দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে না পারা এই ১২ দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি ও দশম সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও রয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ২৫টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিয়েছে। বাকী তিনটি দল হিসাব দেয়নি, এমনকি সময় বাড়ানোর কোন আবেদনও জানায়নি। ১২টি দলের পক্ষ থেকে পৃথক আবেদনে বিভিন্ন মেয়াদে সময়ের আবেদন জানালেও কমিশন হিসাব না দেয়া ১৫টি দলকেই নতুন করে এক মাস সময় বাড়িয়ে দেয়ার পক্ষে। শীঘ্রই কমিশন সভায় উপস্থাপনের পর এসব দলকে চিঠি দিয়ে তাদের নতুন সময়সীমার কথা জানিয়ে দেয়া হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সে অনুযায়ী দলগুলোর জন্য ২০১৩ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। হিসাব জমার তাগিদ দিয়ে গত জুন মাসে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি পাঠায় কমিশন। চিঠিতে বিগত ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি রেজিস্ট্রার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্ম দ্বারা অডিট করাতে বলা হয়।
২০০৮ সাল থেকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের প্রতিবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারার বলা হয়েছে, কোন নিবন্ধিত দল পরপর তিন বছর তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। বর্তমানে কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪১টি। এর মধ্যে ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। তবে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করায় দলটিকে এ চিঠি দেয়া হয়নি।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বিএনপি সময় চেয়েছে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। আর দশম সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি চেয়েছে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণফোরাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সময় চেয়েছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩০ আগস্ট পর্যন্ত, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়ে ইসিতে আবেদন জানিয়েছিল। নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে সদ্য নিবন্ধন লাভ করা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) সময় বাড়ানোর আবেদন জানালেও কতদিন প্রয়োজন তা উল্লেখ করেনি। এছাড়াও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, গণফ্রন্ট ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি হিসাবও দেয়নি আবার সময় বাড়ানোর আবেদনও জানায়নি।
হিসাব জমা দেয়া ২৫ দল
নির্ধারিত সময়ে হিসাব দেয়া দলগুলো হচ্ছে জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতন্ত্রী পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা।
পূর্বেও নির্ধারিত সময়ে হিসাব দিতে পারেনি সব দল
সর্বপ্রথম ২০১০ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২১টি রাজনৈতিক দল তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে পেরেছিল। ২০১১ সালে কমিশনের নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৩১টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। ২০১২ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৬টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করে কমিশনে।
