দেশের প্রচলিত রাইস মিলগুলোতে জ্বালানির অপচয় রোধ ও বিষ্ফোরণ জনিত ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে আজ বুধবার বগুড়ার শেরপুর এবং বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে রাইস মিলমালিক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকদের নিয়ে দু’টি সভার আয়োজন করছে বিদ্যুত্ বিভাগ। এতে উন্নত প্রযুক্তির সুফল তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিতে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
জানা গেছে, দেশের রাইস মিলগুলোতে প্রচলতি পদ্ধতিতে ধান সিদ্ধ করতে অতিরিক্ত তুষ ব্যবহার হয়। তুষের অসম্পুর্ণ দহনের ফলে শক্তির অপচয়সহ কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এসব মিলে ব্যবহূত ড্রাম বয়লারগুলো যথাযথ মানসম্পন্ন না হওয়ায় প্রায়শই বিষ্ফোরণের ফলে প্রতিবছর জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়গুলো তুলে ধরে রাইস মিলের উন্নয়নে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এক চিঠি দিয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ কোটি মেট্রিক টন ধান উত্পন্ন হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই সিদ্ধ চাল তৈরিতে ব্যবহূত হয়। এ লক্ষ্যে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ছোট বড় প্রচলিত রাইস পারবয়েলিং সিসটেম চালু আছে। উত্পাদিত চালের সঙ্গে এক কোটি মেট্রিক টন তুষ পাওয়া যায়, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি বড় উত্স। প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে উন্নত পদ্ধতিতে (ইমপ্রুভ রাইস পারবয়েলিং সিসটেম-আইআরপিএস) ব্যবহার করলে প্রায় ৫০ শতাংশ তুষ সাশ্রয় হবে বলে মনে করে বিদ্যুত্ বিভাগ। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে ধান সিদ্ধ করলে ১০ লাখ টন অতিরিক্ত চাল উত্পাদন সম্ভব হবে এবং উদ্বৃত্ত তুষ থেকে ১৫ লাখ টন ভোজ্য তেল পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে।
বিদ্যুত্ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জিআইজেড’র করিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে এ পর্যন্ত মাত্র ৫০টি উন্নত প্রযুক্তির ধান সিদ্ধ করার মিল চালু হয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভাগটি।
প্রসঙ্গত, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রয়েছে। এ তহবিলের আওতায় আইআরপিএসের জন্য ঋণ নেয়ার সুযোগ পাবেন মিল মালিকরা। সুদের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।
