ঘিওরে সরকারিভাবে এক কেজি ধানও কেনা হয়নি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪৩
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো সংগ্রহ অভিযানের প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও কৃষকদের নামের তালিকা প্রস্তুত ও এক কেজি ধান সংগ্রহ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য খাদ্য অফিস, কৃষি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ দায় চাপাচ্ছে একে অপরের ঘাড়ে। ফলে ইরি-বোরো সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সারাদেশে ১ জুন থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। তা চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। সে অনুযায়ী ঘিওর উপজেলায় এবারে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২শ’ ৫২ মে. টন ধান এবং ১৬ মে. চাল। এ কারণে ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করতে সরকারিভাবে খাদ্য কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা কৃষি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদকে। কিন্তু কৃষি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ ও খাদ্য অফিসের সমন্বয়হীনতার কারণে কৃষকদের নামের তালিকা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। ফলে অভিযান শুরুর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারেনি উপজেলা খাদ্য কমিটি। এদিকে দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ধান-চাল অভিযান শুরু না হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কৃষক ঠান্ডু, বাহেজ উদ্দিন, পান্নু মিয়া, আজাহার উদ্দিন জানান, এবার অনেকের জমিতেই ব্যাপক ইরি ধান হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কিছুসংখ্যক প্রভাবশালীদের কারণে আমরা খাদ্য গুদামে কোন বছরে ধান দিতে পারি না। এ বছর বাজারে ধান-চালের মূল্য বেশি থাকায় ধান-চাল অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফউজ্জামান জানান, মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুত কৃষকের নামের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। খাদ্য কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, ধান-চাল মনিটরিং কমিটির সভা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ঘিওরে মিলার নেই। আমরা ধান-চাল কীভাবে সংগ্রহ করব। সিএলএসডি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. সাইদুজ্জামান জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বর্তমানে বাজারে চালের মূল্য বেশি।