ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় কর্মস্থলগামী দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের পথে পথে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক পথ বেহালের কারণে নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের সিংহভাগ যাত্রীই লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছেন; কিন্তু এবার নৌ-পথের যাত্রাও নির্বিঘ্ন হচ্ছে না। সোমবার মাওয়ায় লঞ্চ ডুবির ঘটনার পর এই ভরা বর্ষায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার কারণে নৌ-দুর্ঘটনার আতঙ্কে ভুগছেন যাত্রীরা। এছাড়া ছোটখাট দুর্ঘটনা তো লেগেই রয়েছে।
রবিবার রাতে পিরোজপুরের হুলারহাট থেকে ঢাকাগামী এমভি আঁচল-৪ লঞ্চের তলা ফেটে পানি প্রবেশ করায় তাত্ক্ষণিকভাবে লঞ্চটি নোঙ্গর করায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন সহস্রাধিক যাত্রী। যাত্রীদের অভিযোগ, ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘাটে ভেড়ার সময় দুর্ঘটনায় এমভি আঁচলের তলা ফেটেছে। পরে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয় লঞ্চটি।
এদিকে একই রাতে দেশের সর্ববৃহত্ বিলাসবহুল জলযান এমভি কীর্তনখোলা-২ লঞ্চটি প্রায় ৩ হাজার যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে বিকল হয়ে যায়। পরে ভোরে বিকল্প যন্ত্রাংশ দিয়ে ইঞ্জিন কোন রকমে সচল করে লঞ্চটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সোমবার বেলা ২টার দিকে লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটে নোঙ্গর করে। দীর্ঘ এ সময় কর্মস্থলগামী মানুষকে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মাদারীপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথের অচল অবস্থার কারণে সড়ক পথেও মানুষকে কর্মস্থলে ফিরতে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
