তোবা কর্মীদের বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও, লাঠিচার্জ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ১০:২৩
আলোচিত তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের সব পাওনা আজকের (বুধবার) মধ্যে পরিশোধ না হলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের হুমকি দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি থেকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। এর আগে প্রায় দেড়শ ঘেরাওকারী বিজিএমইএ ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ লঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে ভবনের সামনে সমবাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে তোবার সমস্যার সমাধান করুন। পিঠ দেয়ালে ঠেকলে উল্টো হাঁটতে বাধ্য হবো। আগামীকালের (আজ) মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ওভারটাইমের সব টাকা না দিলে হরতাল-ধর্মঘটের ডাক দেব। তারা বলেন, দেশের সব কারখানায় ধর্মঘটের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনে সব কারখানায় ধর্মঘট পালন করা হবে। এদিকে গতকাল রাত ৮টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তোবা গ্রুপের এমডি দেলোয়ার হোসেন। হাইকোর্টের জামিন আদেশের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই করে তাকে মুক্তি দেয়া হয় বলে জানান সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী। তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় করা মামলায় গত ২৪ জুলাই হাইকোর্ট থেকে দুই মাসের জামিন পান দেলোয়ার। তোবার শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পাওনা তিন মাসের বেতন, বোনাস ও ওভারটাইটের টাকা বাড্ডায় কারখানায় গিয়ে দিতে হবে। বিজিএমইএতে এসে তোবার শ্রমিকরা কোন টাকা নেবে না। তোবা গ্রুপের শ্রমিক মিরাজ বলেন, ঈদের নামাজ বাড্ডায় কারখানার নিচে রাস্তায় পড়েছি। আমরা বলেছি, ঈদের আগে আমাদের এক মাসের বেতন-বোনাস অন্তত দিন। তারা দেন নি। কালকের মধ্যে (আজ বুধবার) সব টাকা না দিলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেব। সমাবেশে শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ, মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, রফিকুল ইসলাম পথিক, তোবা গ্রুপের শ্রমিক শিল্পী, মর্জিনা, তাজরীন গার্মেন্টসের আহত শ্রমিক জরিনা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 'শ্রমিকরা না খেয়ে মরে, বিজিএমইএ-সরকার তামাশা করে', 'মালিকরা ঈদ করে বিদেশে, শ্রমিকরা ঈদ করে কারখানায়', 'এক তারিখে সব পাওনা দিতে হবে'- প্রভৃতি শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড এসময় শ্রমিকদের হাতে দেখা যায়। তাজরীন গার্মেন্টসের কিছু আহত শ্রমিকও তাদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সেখানে অবস্থান নেন। রাজনীতিকরণের অভিযোগ: এদিকে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গতকালের এ ঘেরাও কর্মসূচিতে তোবার শ্রমিক ছিল না। তোবার শ্রমিকরা বেতন নিতে আসবে। বাম রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরাই এ কর্মসূচি পালন করেছে। তোবা ইস্যুতে রাজনীতি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, বিজিএমইএ কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। তাদের এ ধরনের আপদকালীন তহবিলও নেই। শ্রমিকদের দেনা পরিশোধের দায়িত্ব মালিকের। তবু মালিক জেলে থাকায় মানবিক কারণে ২ মাসের বেতন দিচ্ছি। এটি মালিক-শ্রমিক নেতা ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত। আমরা আশা করি- শ্রমিকরা কাল (আজ) এসে টাকা নিয়ে যাবে। বিজিএমইএ ভবনে টাকা দেয়া হবে। টাকা না নিলে বিজিএমইএ-এর কিছু করার থাকবে না। তিনি আরো বলেন, ঘেরাও কর্মসূচিতে তোবার শ্রমিকরা ছিল না। বামপন্থি কিছু নেতাকর্মী ছিল। শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি তোবা গ্রুপের কারখানাগুলোর আর্থিক সংকটের কথাও সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। এদিকে তোবা গ্রুপের ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে কোন অর্থ নেই বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ-এর অন্য একটি সূত্র। প্রসঙ্গত, তিন মাসের বেতন-ভাতা ও বোনাসের দাবিতে তোবা গ্রুপের ১ হাজার ৬শ শ্রমিক ঈদের আগের দিন থেকে অনশন করছেন। 'তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ' পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করে। বাম ঘরানার ১৫টি শ্রমিক সংগঠন এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।