বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় মাছ ধরার চাঁই ও নৌকার কদর বেড়ে গেছে। তাই ব্যস্ত সময় কাটছে নৌকা তৈরির মিস্ত্রি ও চাঁই তৈরির কারিগরদের। এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের মত্স্য শিকারের কাজেও অন্যতম ভূমিকা রাখে নৌকা।
এ মৌসুমে নৌকায় জাল, চাঁই (মাছ ধরার ফাঁদ) অথবা বঁড়শি নিয়ে মত্স্য শিকারে ছুটে চলেন জেলেরা। তাই প্রতি বছর বর্ষা এলেই বেড়ে যায় চাঁই ও নৌকার কদর। আর এই মৌসুমে চাঁই ও নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এ অঞ্চলের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী।
নৌকার জন্য বিখ্যাত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা। এছাড়া গৌরনদীর বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নৌকা তৈরি করা হয়। জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত আগৈলঝাড়ার সাহেবেরহাট ও গৌরনদী মাহিলাড়া হাটে বসে নৌকার হাট।
বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি ও তরকারিসহ পেয়ারা এবং লেবুসহ কৃষিপণ্য বাজারে আনার জন্য ছোট যে সব খাল-বিল পার হতে হয়ে তাতে নৌকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই জমে উঠেছে নৌকার হাট। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্থানে চলছে নৌকা বানানোর ধুম।
অন্যদিকে মাছ ধরার চাই তৈরির জন্য বিখ্যাত আগৈলঝাড়া উপজেলার মোহনকাঠী গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় দু’শ’ বছর ধরেই এ গ্রামে চলছে চাঁই তৈরি ও বিক্রির কাজ। বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের চারশ’ পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে চাঁই তৈরি করে।
মোহনকাঠী গ্রামের তৈরি করা চাঁই বিক্রি হয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাট-বাজারে। গ্রামটির নাম মোহনকাঠী হলেও চাঁই তৈরি করতে গিয়ে গ্রামের নাম হয়েছে ‘আগৈলঝাড়ার চাঁই পল্ল¬ী’। নানাবিধ সমস্যার মধ্যে বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের বাসিন্দারা চাঁই তৈরির পেশাকে ধরে রেখেছেন।
ওই গ্রামের লক্ষণ বৈরাগী জানান, তাদের গ্রামের তৈরি চাঁই স্থানীয় মাহিলাড়া, পয়সারহাট, সাহেবেরহাট, ধামুরাসহ বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠী, ভোলা, ঘাঘর, শশীকর, নবগ্রাম, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিক্রি করা হয়।
