দশ বছরের বেশি সময় ধাওয়া করে ইউরোপীয় মহাকাশ অনুসন্ধান স্যাটেলাইট ‘রসেটা’ অবশেষে ধুমকেতু ৬৭পি/ চুরিউমভ-গেরাসিমেঙ্কো এর কাছে পৌঁছেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে রসেটাকে সোলার সিস্টেমের ভেতর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি কিলোমিটার। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) গতকাল বুধবার একথা জানায়। খবর এএফপি ও বিবিসির। ‘রসেটা’ প্রকল্পের ম্যানেজার সিলভেইন লডিওট জার্মানীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বলেন, ‘আমরা ধুমকেতুটির কাছে পৌছে গেছি। আমরা অবশেষে সফল হয়েছি। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে কোনো ধুমকেতুর আশেপাশে পৌছে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। ধুমকেতুর ধুলিকণা এবং বরফ গবেষণায় বেরিয়ে আসতে পারে কিভাবে গ্রহগুলো তৈরী হয়েছিল। আগামী নভেম্বর মাসে এই ধুমকেতুর উপর রসেটা থেকে নামিয়ে দেয়া হবে ফিলাই নামের একটি রোবোটিক সায়েন্টিফিক ল্যাবরেটরি।
বুধবার গ্রীনিচ মানসময় ০৯২৯ ঘটিকায় পৃথিবী থেকে ৪০০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে ধুমকেতুটির সঙ্গে রসেটার সাক্ষাত্ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ইএসএ পরিচালক জিন জ্যাকস বলেছেন, আমাদের ২০ বছরের পরিশ্রমের ফল পাওয়া গেছে। তিন টন ওজনের এই স্যাটেলাইটটি ডিজাইন, নির্মাণ ও টার্গেটের উদ্দেশে নিক্ষেপ করতে আমাদের এই সময় লেগে গেছে। তিনি আরো বলেন, এই মিশনের কোনো তুলনা হয় না।
ধুমকেতুটির উদ্দেশে রসেটাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ২০০৪ সালের মার্চ মাসে। এই সময়ের মধ্যে এটি মঙ্গল এবং পৃথিবীর কাছ দিয়ে চারবার প্রদক্ষিণ করে গেছে। গতি বাড়িয়ে ধুমকেতুটিকে ধরতে এটি পৃথিবী এবং মঙ্গলের অভিকর্ষ শক্তি ব্যবহার করেছে।
ধুমকেতু নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্ত নেই। এটি নিয়ে নানা বিজ্ঞানীরা নানরকম মতবাদ নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতবাদ হলো, ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন বছর আগে যখন সৌরজগত্ সৃষ্টি হয়েছিল তখন পরিত্যক্ত ধুলিকণা এবং বরফ থেকেই ধুমকেতুর জন্ম। এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজারের বেশি ধুমকেতুর সন্ধান পাওয়া গেছে।
