ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলাধীন বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় গতকাল বুধবার বিকালে দুই যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৮ যাত্রী নিহত হয় এবং অন্তত ৬০ জন যাত্রী আহত হয়েছে। এ সময় একটি বাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে গেলে দুই জন বাসে পুড়ে মারা যায়। নিহতদের মধ্যে চার জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী সোহানা (১৮), মজনু মিয়া, রেজিনা বেগম (৪৫), শিবপুরের হান্নান (৬৫) ও আব্দুল হান্নান। আহতদের মধ্যে ৪৫ জনকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ১৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালে ১০ জনকে পাঠানো হয়েছে। রাতে ঢাকা মেডিক্যালে মারা যান তিন জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি বাস গতকাল বিকাল সোয়া ৪ টায় দ্রুতবেগে বিসিক শিল্পনগরী এলাকা অতিক্রম করার সময় ঢাকা থেকে ভৈরবগামী মেঘালয় ট্রান্সপোর্টের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসেরই সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। হঠাত্ সোহাগ পরিবহনের বাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এসময় সোহাগ পরিবহন বাসের ভিতর আটকা পড়া ২ জন পুড়ে মারা যায় এবং কমবেশি ২০ জন যাত্রী আগুনে পুড়ে আহত হয়।
খবর পেয়ে নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে সোহাগ পরিবহনের বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। মেঘালয় ট্রান্সপোর্টের বাসটির কিছু অংশ পুড়ে যায়। নিহত ও আহতদেরকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। শত শত মানুষ নিহত ও আহত যাত্রীদের দেখার জন্য এবং অনেকে আত্মীয়-স্বজনের খোঁজে হাসপাতালে ভীড় জমায়।
এসময় নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. পুতুল রায় এবং জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিত্সকরা জরুরি বিভাগে গিয়ে তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাকার্য তদারকি এবং পরিচালনা করেন।
খবর পেয়ে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান, পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল এবং জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
