প্রাকৃতিক এবং নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। প্রতি বছর ঈদের সময় ও অন্যান্য উত্সবে মানুষ ভিড় করে মানবকুণ্ডে। এবছর ইতিমধ্যে লক্ষাধিক পর্যটক মাধবকুণ্ড ভ্রমণ করেছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে পর্যটকরা প্রায়ই নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়।
পাথারিয়া পাহাড়ের পাদদেশ গঙ্গাইমারা ছড়ার পানি প্রায় আড়াইশ ফুট উঁচু থেকে খাড়া নিচে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে ইকোপার্ক। নয়নাভিরাম ঝর্ণা ধারা, বনজ সম্পদ, বিলুপ্ত প্রায় বৃক্ষরাজি, খাসিয়া সমপ্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবন প্রণালী, ছোট বড় টিলা, চা বাগান, মন্দির, বড় বড় পাথর, বিরাট গুহা, উপজাতিদের পানপুঞ্জি, জুম চাষ ও পাহাড়িদের সনাতনী ঘরবাড়ি মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জলরাশির অবিরাম ধারা অন্যরকম সুর তুলে মায়াবি হাতছানি দেয় ভ্রমণবিলাসীদের।
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। উপজেলা শহর থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। পর্যটকদের জন্য বড়লেখায় আবাসিক সুযোগ সুবিধা আরো বাড়ানো গেলে, বড়লেখা থেকে মাধবকুণ্ড যাওয়ার যানবাহন ভালো হলে এবং সর্বোপরি মাধবকুণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো ভালো করতে পারলে পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতো দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জলপ্রপাতটি।
এখানকার নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক পর্যটক। এখানে বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা বলেন, বাংলাদেশে এতো সুন্দর দৃশ্য আছে এখানে না আসলে জানতামই না। তবে রাস্তাঘাট সংকীর্ণ হওয়ায় এখানে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আরো ভালো করা যেতো। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ছেলে মেয়েকে নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের মধ্যে সুযোগ সন্ধানী মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা সুযোগ পেলেই নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। কুণ্ডের প্রবেশ পথে মাঝে মাঝেই বখাটেদের হাতে নাজেহাল হচ্ছে পর্যটকরা। পর্যটক অভিযোগ করেন, ব্যাপক সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটলেও সেখানে তাদের নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারণায় প্রতিদিনই মুখরিত হয়ে উঠছে মাধবকুণ্ড। অন্যদিকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নানা দুর্ভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবাধ বিচরণের চিত্র দেখা যায়। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা স্বল্পতা ও অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও পর্যটকদের আগমনের কমতি নেই।
তবে মাধবকুণ্ড ঘুরতে এসে মাঝে মাঝেই প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে কুণ্ডের পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে পানিতে ডুবে গত কয়েক বছরে ৩৫ জনের সলিল সমাধি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কুণ্ডের পানিতে সাঁতার কাটা, সুউচ্চ টিলার উপরে উঠা বন্ধে পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২/৪টি সাইনবোর্ড ব্যতীত কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অতীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে কুণ্ডের স্রোতধারায় তলিয়ে গিয়ে অনেকে মারা গেছে। আবার উপরে উঠে নিচে পড়েও মারা গেছে অনেকে।
দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা ও ইকোপার্ক মাধবকুণ্ডে ঈদ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষের পূর্বপ্রস্তুতি ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা সম্পর্কে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মাধবকুণ্ডের পর্যটন এলাকায় পুলিশ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
