সামাজিক নেটওয়ার্ক

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২২
সারা পৃথিবী এখন একটা বিশাল জালের মধ্যে আটকে রয়েছে। আর এই জালটার পোশাকী নাম হচ্ছে www বা world wide web। এর মাধ্যমেই বদলে যাচ্ছে আমাদের দৈনন্দিনের সম্পর্কের জাল। বন্ধুত্ব, আড্ডা, গান, গেমস সবকিছুই পাওয়া যায় এখন এক ছাদের তলায়! আর এই কল্যাণটি বয়ে এনেছে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। যা তারুণ্যের মাঝে যোগাযোগের পুরো ব্যাপারটাই বদলে দিয়েছে। এই সময়ের তারুণ্যের সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নের এই ক্ষেত্রটি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার সম্পর্কের কত রকমেরই না সংজ্ঞা থাকতে পারে। বন্ধুত্বের কত ধরনেরই না আহ্বান হতে পারে। তবুও বন্ধু থাকে দেখা ও না দেখার মাঝেও। এক সময় পত্রমিতালির মাধ্যমে বহু বন্ধুত্ব হয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। আর এইখানটায় না দেখাটাই থাকে সবসময় বেশি। হয়তো দূরত্ব যখন কম থাকে বন্ধুর আবাসস্থল থেকে তখন মাঝে মাঝে দেখাও মেলে। বন্ধুত্ব এমনই এক আহ্বান, যেখানে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা দায়। হালে অনেকেই বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন প্রযুক্তির সান্নিধ্য নিয়ে। ফেসবুক, ইয়াহু, মেসেঞ্জার কিংবা হাইফাইভসহ বেশ কিছু মাধ্যমে প্রতিনিয়তই মানুষ জড়িয়ে যাচ্ছে বন্ধুত্ব নামক শব্দের সাথে। বর্তমানে দুনিয়াজুড়ে অনলাইনের এই বন্ধুত্ব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিনই নতুন নতুন বন্ধুর সাথে গড়ে তুলছে নিজের বন্ধুত্ব। তবে মুশকিল হচ্ছে, এই বন্ধুত্ব বরাবরই হয়ে যাচ্ছে না দেখা বা শোনার মাঝে সীমাবদ্ধ। বেসরকারি ভার্সিটির ছাত্র তপু। ফেসবুক, মাইস্পেস, হাইফাইভে প্রোফাইল আছে তার। ফ্রেন্ডলিস্ট এত লম্বা যে, তিনি অর্ধেকের নামই ভুলে যান। বন্ধুত্বের সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে তিনি পেয়েছেন রবিন, সুমন, জয়ীর মতো ভালো বন্ধু। তাদের পছন্দগুলো তপুর সাথে ভীষণ মিলে যায়। তাই তো তপু অবসর পেলেই বসে পড়ে কম্পিউটারের সামনে। আবার যশোর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সুস্মিতা। বন্ধু বানানোর জন্য সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রোফাইল খুলবেন না। কারণ, তার বন্ধু-বান্ধবের কমতি নেই। কলেজে দিব্যি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন, ঘুরছেন, মজা করছেন। এসবের জন্য ফেসবুকে নাম লেখাতে চান না তিনি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র সুজন বলেন, ‘আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাত শ বন্ধু আছে, যার মধ্যে ছয় শ বন্ধুকে আমি কখনই দেখিনি। বাকি এক শ জনের অর্ধেকের সাথে প্রায়ই দেখা হয়। আমি নিজেই জানি না, এদেরকে কেন আমি আমার বন্ধুত্বের তালিকায় রেখেছি। হয়তো এটা একটা স্ট্যাটাস ছাড়া আর কিছু নয়।’ ভিকারুন্নেসা কলেজের তাসনিমা বলেন, ‘আমি যাদের চিনি না অথবা জানি না তাদেরকে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে রাখি না, কিন্তু আমার অনেক বন্ধুকেই দেখেছি, তাদের অসংখ্য বন্ধু রয়েছে অ্যাকাউন্টে, যাদের সাথে কখনই দেখা হয় না তাদের। এরকম বন্ধু ব্যাপারটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ আচ্ছা, তরুণ প্রজন্ম সোস্যাল নেটওয়ার্কিং করে কেন? শুধুই কি বন্ধু জোগাড় করার জন্য—মোটেই না। এখানে আড্ডা আছে। সবার পছন্দের তালিকা অনুযায়ী সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর রয়েছে প্রচুর রকমফের। গান শোনা, সিনেমা দেখা, বই পড়া—পছন্দ অনুযায়ী আপনি বেছে নিতে পারেন মনের মতো যেকোনো ধরনের সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। শুধু কি এইটুকু? আমাদের মধ্যেই অনেকেই আছেন, যারা পড়াশোনায় হাইফাই না হলেও ‘জীবনে কী পাব না, ভুলেছি সে ভাবনা’—এমন হাবভাব নেই। বরং তাদের চেষ্টা, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজের পায়ে দাঁড়ানো। বিনা খরচে তারা একটা প্ল্যাটফর্ম পায় এখানে। তাই, চলুন বন্ধুত্বের সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো সম্পর্কে জেনে নিই। ফেসবুক সেদিন আড্ডা দিতে দিতে জিতু হঠাত্ সুমনাকে বলল, ‘তোকে একটা গরু পাঠিয়েছি দেখেছিস?’ জিতুর প্রশ্ন শুনে সুমনার চোখ কপালে! সে বন্ধুদের সামনে ফস করে বলেই ফেলল, ‘গরু, মানে?’ তা শুনে বাকিরা সুমনাকে বকা দেবে এমন অবস্থা! তুই ফার্মভিল খেলা জানিস না... কোন জগতে থাকিস তুই... ইত্যাদি, ইত্যাদি। সত্যি, এই সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের সময়ে ফার্মভিল বা মাফিয়া ওয়ারসের মতো খেলার কথা না জানলে বকা তো খেতেই হবে। ফেসবুকে একটা প্রোফাইল থাকলেই এসবের সন্ধান মিলবে। ফেসবুক বা এ ধরনের কোনো সাইটে প্রোফাইল খুলতে হলে ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘সাইন ইন’ অপশনে ক্লিক করে নিজের নাম, ই-মেইল আইডি, জন্ম তারিখ লিখে দিলেই প্রোফাইল রেডি। তারপর পছন্দমতো বন্ধুদের পাঠিয়ে দিন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। ভুলভাল লোকজনের প্রোফাইল ভিজিট বন্ধ করার জন্য রয়েছে প্রাইভেসি সেটিংস। ফেসবুকে প্রত্যেক ইউজারের প্রোফাইল পেজের ‘ওয়াল’-এ বন্ধুরা মেসেজ পোস্ট করতে পারে। মেসেজের সঙ্গে অ্যাটাচমেন্টও পাঠানো যায়। ইচ্ছেমতো ছবি আপলোডও করা যায়, কোনো চাপ নেই। সেই সঙ্গে রয়েছে ছবিতে নাম ট্যাগ করার সুযোগ! পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়ার ঠিকানাও ফেসবুক। ওয়েব সাইট :www.facebook.com হাইফাইভ হাইফাইভ, নামটার মধ্যেই বেশ দোস্তি-দোস্তি গন্ধ আছে, না? থাকবেই তো, কারণ এই সাইট হলো ‘অল অ্যাবাউট ফ্রেন্ডশিপ’। এখানে আবার বন্ধুদের তিনটে ভাগ আছে। ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড ডিগ্রি। সরাসরি বন্ধু হলে ফার্স্ট ডিগ্রি, আর যত ভায়া-মিডিয়া হবে, তত গ্রেড পিছাবে। এর পাশাপাশি ছবির অ্যালবাম, পছন্দের গান দিয়ে প্রোফাইল সাজিয়ে নেওয়া যায়। এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইলে সাইটটিতে গিয়ে খোলা যায়, কিংবা জি-মেইলেও রিকোয়েস্ট পাঠানো যায়। তবে, এইচটিএমএল-এর ব্যবহার ভালো করে জানা থাকলে জাস্ট জমে যাবে। ওয়েব সাইট :www.hi5.com ফ্লিক্সার আপনি কি মুভিপ্রেমী? সত্যজিত্ রায় থেকে শুরু করে শ্যাম বেনেগাল হয়ে ডেভিড ধাওয়ান ছুঁয়ে আকিরা কুরেসাওয়া, জেমস ক্যামেরন—কারও ছবিই বাদ পড়ে না? এমন সিনেমাপোকাদের জন্য আইডিয়াল সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট হলো, ফ্লিক্সার। এখানে ইউজাররা বিভিন্ন ছবি সম্পর্কে তাদের মতামত লিখতে পারে। নানারকম কুইজে অংশ নিয়ে ফিল্ম সম্পর্কে নিজের কতটা জ্ঞান, তাও যাচাইয়ের সুযোগ আছে। তা ছাড়া নিজেও কুইজ করা যায়। যেসব ছবি রিলিজ করছে, সেগুলো হলে গিয়ে দেখা মানে সময় নষ্ট নাকি অর্থ অপচয়, সে সম্পর্কেও আপডেট করে ফ্লিক্সার। মুভিপ্রেমীদের সঙ্গে নিজে তো বন্ধু পাতানো যাবেই, ফ্লিক্সারও টেস্ট বুঝে সমগোত্রীয় বন্ধুদের রিকমেন্ড করে। তা ছাড়া, মাইস্পেসে আর ফেসবুকেও কিন্তু ফ্লিক্সারের অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। ওয়েব সাইট :www.flixture.com নেটলগ প্রায় বিশটি ভাষায় নেটলগে প্রোফাইল খোলা যায়। তবে ভাষাগুলো যেহেতু ইউরোপীয়, তাই এ দেশের তুলনায় ওইদেশেই নেটলগের জনপ্রিয়তা বেশি। তবে, অনেকেই তো আজকাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে বেশ মাথা ঘামান, তাদের জন্য এই সাইটটি দুর্দান্ত। বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করে আলোচনা করা যায়। বিদেশি বন্ধু পাতিয়ে ওখানকার ইউনিভার্সিটির গরম খবর পেতে চাইলেও নেটলগ ভালো অপশন। এখানে নিজের ব্লগ খোলা যায়। শুধু কি এটুকুই? বিটল্স, রিহানা, ক্রিস ব্রাউনের মতো নামি বিদেশি শিল্পীর গানের স্টকও এখানে রয়েছে। এ ছাড়া অ্যালবাম ভিডিও দিয়ে নিজের ওয়েবপেজ সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগও আছে। ওয়েব সাইট :www.netlog.com