এপিপি স্ত্রীকে মারধর করায় না’গঞ্জ আদালতপাড়া উত্তপ্ত

আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ০০:৫৫

নারায়ণগঞ্জে আদালতপাড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বারান্দায় একজন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে মারধরের ঘটনায় আদালতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে এপিপি জাসমিন আহমেদের সঙ্গে আদালতের এজলাস কক্ষে তার স্বামীর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

গত বুধবার অ্যাড. জাসমিনকে মারধরের পর সাধারণ আইনজীবীরা ফুঁসে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে কর্নেল (অব) ডা. কুনাল সাহার অধীনে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এদিকে অ্যাড. জাসমিনের উপর হামলার প্রতিবাদে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল আদালতপাড়ায় মানববন্ধন করা হয়েছে।

অ্যাড. জাসমিন অভিযোগ করে বলেন, তার পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি তাকে নির্মম ভাবে নির্যাতনের পর পুলিশ যখন তাদের আটক করে আদালতের গারদ খানায় রাখে তখন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. ফেরদৌস হাসান জুয়েল তদবির করে তাদের ছাড়িয়ে দেন।

গত বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দরজার সামনে অ্যাড. জাসমিনকে তার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি মিলে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে। নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আব্দুর রউফ জানান, মুসলিম ও পারিবারিক আইনে অতিরিক্ত পিপি জাসমিন আহমেদ তার স্বামী পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীব তার মা জুবরিয়া বেগম ও ছোট ভাই আবু নাছের নিপুনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তারা ৩ জন ৮ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। এ জামিননামা নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত বুধবার দুপুরে দাখিল করতে আসেন। দুপুরে জামিননামা দাখিল শেষে বের হওয়ার পথে আদালতের দরজার সামনে দেখা হয় মামলার বাদী জাসমিনের সঙ্গে। এসময় তর্কে জড়িয়ে জাসমিনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আবু নকীব ও তার ছোট ভাই নিপুন। তখন আশপাশের আইনজীবীরা এসে জাসমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর ফুঁসে উঠেন আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষ। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু নকীব তার ভাই ও মাকে কোর্ট গারদে নিয়ে আটক রাখে পুলিশ।

আবু নকীবের বরাত দিয়ে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা ট্রাফিকের দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীব অনেক আগেই তার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদকে তালাক দিয়েছে। এরপর আবু নকীব ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে জাসমিন আহমেদ একাধিক মামলা করেছে। গতকাল বুধবারও একটি মামলায় জামিননামা দাখিল করতে আসলে জাসমিন তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু নকীব ও তার মা এবং ছোট ভাইকে হাজতে রাখা হয়েছিল পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জাসমিন আহমেদ জানান, আবু নকীব প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে প্রতারণা করে আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর থেকে একাধিকবার আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে যৌতুক হিসেবে। সুখের সংসারের কথা চিন্তা করে তার নানা নির্যাতন সহ্য করেছি। আমি একজন আইনজীবী হয়েও নির্যাতিত। তারপরও স্বামীর সংসারের জন্য অনেক লড়াই করতে হচ্ছে। এখন নির্যাতনের শিকার হলাম আদালতের দরজায়। আমি এর বিচার চাই।