হবিগঞ্জ ও সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৪
গতকাল শুক্রবার হবিগঞ্জের বাহুবল লাখাই ও নবীগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৭ জন। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের বিভিন্নস্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার তুঘলি এলাকায় বাস-মাইক্রোবাস ও মোটর সাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪ যাত্রী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিকালে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘মিতালী পরিবহনের’ একটি বাস তুঘলি এলাকায় পৌঁছলে সিলেটগামী একটি মাইক্রোবাস এবং একটি মোটর সাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সিলেটের বালাগঞ্জের মংলাবাজার এলাকার মাইক্রোবাস আরোহী তুলা মিয়া, সঙ্গী জসিম উদ্দিন, তাজপুরের সোনাপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী শিপন মিয়া ও মাইক্রোবাস চালক দেলওয়ার হোসেন লিমন এবং মোটর সাইকেল আরোহী দুই ভাই বাহুবল উপজেলার জশপাল গ্রামের খোকন মিয়া (২৮) ও রুকন মিয়া (২৬)। আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি। একইদিন হবিগঞ্জের লাখাই ও নবীগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় চন্দন শীল (৪০) ও পাবেল মিয়াকে (৩০) সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাখাই উপজেলার মুড়াকড়ি এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা ৪ যাত্রী নিয়ে হবিগঞ্জ শহরে যাওয়ার পথে সড়কের করাব এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতমুখী বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। দেওয়ান আলীকে (৩৫) হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। শুক্রবার ভোরে হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শিবপুরে ট্রাক চাপায় বাজারের পাহারাদার শহীদুল ইসলাম (৬০) মারা যান। নিহত শহীদুল নবীগঞ্জ উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদবাতা জানান, সীতাকুণ্ডে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন ৩০ জন যাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৬টায় বাড়বকুণ্ড প্রগতির সামনে কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী বাস আনন্দ পরিবহন এবং একটি ঢাকামুখী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় বাস ও ট্রাকের ড্রাইভার এবং এক মহিলা যাত্রীসহ ৪ জন। কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জিল্লুর রহিম ঘটনাস্থল থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতরা হচ্ছে জরিনা বেগম (৫০), স্বামী আবুল হোসেন, রেলওয়ে কলোনী, চট্টগ্রাম। ট্রাক ড্রাইভার ওবাদুল (৩০), পিতা আব্দুল হামিদ বগুড়া ও বাস ড্রাইভার মোঃ কাসেম (৩২) নোয়াখালী। চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আহত মোঃ নাজমুল (২৪) চমেক হাসপাতালে মারা যান। তিনি পিরোজপুরের গোলাম মোস্তফার পুত্র এবং অন্যরকম গ্রুপের কর্মকর্তা। চমেকে চিকিত্সাধীন আছে চকরিয়ার মোঃ মোশাররফ, চট্টগ্রাম কদমতলীর হূদয়, কক্সবাজার উখিয়ার মামুন। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ৩০ জন যাত্রী। তাদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ১০ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য যাত্রীদের সীতাকুণ্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, সীতাকুণ্ড ও কুমিরা ফায়ার স্টেশন থেকে ২টি ইউনিট গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়।