সিলেটের পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ঘটছে নৌ দুর্ঘটনা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৬
বর্ষা মৌসুমে হাওর প্রধান সিলেটের ভাটিতে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় গত চার বছরে সিলেটের ৪ জেলায় শতাধিক লোক নৌ-দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে হাওর প্রধান সুনামগঞ্জ জেলায়। এসব দুর্ঘটনার বেশির ভাগ শিকার যাত্রীবাহী বা মালবাহী ইঞ্জিন চালিত নৌকা। নৌযান হিসাবে চলাচল উপযোগী কি না তা পরীক্ষা না করেই কোনরূপ অনুমোদন ছাড়াই এগুলো চলছে ভাটি অঞ্চলে। কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চলে বেশি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া জাফলং ও লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় নৌকা চড়তে বা সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এবার ঈদের দিন থেকে এ পর্যন্ত জাফলং-এ বেড়াতে এসে ৫ পর্যটক পিয়াইন নদীতে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এই ধরনের দু:খজনক ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে এবার ৫ পর্যটকের মৃত্যুর পর প্রশাসন মাইকিং করে নিষেধ করছে পিয়াইন নদীতে পর্যটকদের নামতে। কেউ এই আদেশ মানছে-আর কেউ জাফলং-এ বেড়াতে এসে নদীতে নামতে পারেনি বলে দু:খ করছে। প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা কতদিনই বা টিকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে মতামত ব্যক্ত করেছেন সিলেট সওজ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন। তিনি মনে করেন প্রতিটি নৌযানে যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যদি লাইফ জ্যাকেট রাখা হয় তা হলে অনেক প্রাণ বেঁচে যেতে পারে। এদিকে ভাটির জনপদে বিশাল হাওর ও খরসে াতা নদীতে নৌযানগুলো চলে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে। এক সময় এই অঞ্চলে সরকার অনুমোদিত লঞ্চ চলাচল করতো। কিন্তু এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে বেআইনি ইঞ্জিন চালিত নৌকা। তাই এমন কোন বর্ষা মৌসুম নেই যে বর্ষায় নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেনি। এতে কত পরিবার যে অসহায় হয়ে পড়ছে তারও হিসাব নেই। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নৌ-দুর্ঘটনায় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে জামালগঞ্জের আলীপুর গ্রামের নিকট ৪০ জন , ২০১২ সালে এই উপজেলার সাচনা বাজারের নিকট ১২ জন, ২০১১ সালে ধর্মপাশার সোনার থাল হাওরে ৪ জন, ২০১৩ সালে দোয়ারাবাজারে ১১ জন, ২০১৪ সালে তাহিরপুরে ৩ জন, সুরমার পৈন্দা নদীতে ২ জন, মল্লিকপুরের নিকট ৩ জন, বৃহস্পতিবার হবতপরের নিকট ২ জন ও জাফলং-এর পিয়াইন নদীতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটের পর্যটন স্পট জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে পর্যটকদের নদীতে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, গোয়াইনঘাটের ইউএনও ও ওসির নেতৃত্বে গত ১ আগস্ট সকাল থেকে সেখানে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন পর্যটক যাতে নদীতে নামতে না পারেন- সে বিষয়টি তদারকি করেন। সিলেট মেট্রোপলিটন হোটেলের এমডি খলিলুর রহমান মাসুম বলেন, সিলেটের হোটেল মালিকদের সুযোগ দিলে তারা জাফলংসহ পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকায় নিজস্ব মজবুত নৌকা, দক্ষ চালক এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা দিতে পারেন পর্যটকদের জন্য। এতে দুর্ঘটনা ও লোক ক্ষয় হ্রাস পাবে। বিছনাকান্দিতে নৌকা ডুবে পর্যটকের মৃত্যু সিলেটের পর্যটন স্পট বিছনাকান্দিতে গতকাল শুক্রবার নৌকা ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সাজেদুল হক (২৮)। তিনি ঢাকার সৈয়দপুর এলাকার ফজলুল হকের ছেলে। সাজেদুল লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজের কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ জানায়, সাজেদুল ও তার আরো ৫ বন্ধু বিকালে বিছনাকান্দি যাওয়ার জন্য গোয়াইনঘাটের হাদারপাড় থেকে একটি নৌকায় উঠেন। পথে নৌকাটি ডুবে গেলে অন্যরা সাঁতরে উঠতে পারলেও সাজেদুল তলিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন জাল দিয়ে সাজেদুলের লাশ উদ্ধার করেন। পুলিশ তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছে।