ফিট হতে না পারায় তামিম ইকবাল নেই। বাদ দেয়া হয়েছে ইমরুল কায়েসকেও। আজ শুরু হতে চলা মিরপুর টেস্টে নিশ্চিতভাবেই নতুন ওপেনিং জুটি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দলে আছেন স্বীকৃত দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাদমান ইসলাম। আর সাদমানের অভিষেকটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু ব্যাটসম্যান বদলালেও ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য বদল হচ্ছে না। বছরের শুরু থেকে সর্বশেষ সাত টেস্টে ওপেনারদের ব্যর্থতার মিছিল পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে। সাত টেস্টে চারবার পরিবর্তন হয়েছে ওপেনিং জুটি। এবার মিরপুরে বছরের অষ্টম টেস্টে পঞ্চম জুটি নিয়ে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
ওপেনারদের বিবর্ণ ছবিটা দেখতে দেখতে ক্লান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট। মিরপুরে ওয়েস্টইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু চান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ইনিংসের ভালো শুরু কতটা দরকার তা গতকাল আবারও বিশদভাবে বুঝিয়েছেন তিনি। প্রতি ইনিংসেই শুরুতে বিপর্যয় রোধ করে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ভালো খেলাটা সহজ নয়। সাকিব তাই ওপেনারদের ব্যাটে রান চান। ১১ টেস্ট খেলা সৌম্য ও নবাগত সাদমানের উপরও তাই ওপেনিংয়ের রান খরা ঢেকে দেয়ার চাপ থাকছে আজ।
গতকাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেছেন, ‘ওপেনিংয়ে একটা ভালো জুটি হলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ হয়, দলের ভেতর একটা স্বস্তির ভাব চলে আসে। খুব ভালো একটা অবস্থানে আসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওপেনিং জুটি। প্রতিদিন ১০ রানে ২ উইকেট না থাকলে তো কাজটা খুব কঠিন, মিডল অর্ডার তো প্রতিদিন গিয়ে ভালো করতে পারবে না। এটা স্বাভাবিক।’ মুমিনুল এ বছর চারটা সেঞ্চুরি করেছেন। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি না হোক, বড় ইনিংস, শতরানের জুটি বা ওপেনারদের কাছে অন্তত ৫০ রানের জুটিও চান অধিনায়ক। সাকিব বলেছেন, ‘আমাদের ওপেনারদের কাছ থেকে যদি এক দুইটা একশ বা বড় রান আসে বা জুটিটা যদি ফিফটিও হয়ে যায় তাহলেও আমাদের জন্য বড় একটা স্বস্তি হবে।’ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে তামিম-ইমরুল ওপেনিং করেছেন। ওয়েস্টইন্ডিজ সফরে অ্যান্টিগা-কিংস্টনে তামিম-লিটন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট ও ঢাকায় ইমরুল-লিটন এবং ওয়েস্টইন্ডিজের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ইমরুল সৌম্য ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছেন।
চলতি বছরে সাত ম্যাচের ১৪ ইনিংসে মাত্র তিনবার পঞ্চাশ রান পার করতে পেরেছে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। ছয় ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘর পার হওয়ার আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছেন ওপেনাররা।
সবাই ব্যর্থ হচ্ছেন বলেই নাকি বারবার পরিবর্তন আসছে ওপেনিংয়ে। অধিনায়কের আশা, নতুন কেউ এসেই ভরসা যোগাবে ওপেনিংয়ে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘অনেকগুলো পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের মনে হয়েছে, পরিবর্তন হতে থাকলে একটা না সময় এসে ওরকম কাউকে আমরা পাব, যাদেরকে মনে হবে, এদেরকে একটা জায়গায় রেখে খেলানো সম্ভব হবে। ওই ভরসার জায়গাটা তৈরি করা খুব জরুরি।’
শুধু তাই নয়, এ বছর টেস্টে পাঁচজন ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছে। ঘনঘন এই পরিবর্তনের পক্ষে নন সাকিবও। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় অগ্রাধিকার দেই একজন প্লেয়ারের যখন অভিষেক হয় কিংবা তাকে যখন খেলানো হয়, তাকে যেন পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হয়, তার সামর্থ্য, প্রতিভা প্রমাণ করার। যদি তারপরও সে ব্যর্থ হয় তারপরেই তাকে পরিবর্তন করা উচিত। ঘন ঘন পরিবর্তনের পক্ষে আমিও না।’
