বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ এর মাসিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রানীতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ও ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জিত না হওয়ায় মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়ছে। এদিকে চলতি মুদ্রানীতি অনুসারেও মূল্যস্ফীতি ও ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যহত হতে পারে। মুদ্রানীতি অনুযায়ী গৃহীত উচ্চ ‘ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়্যারমেন্ট’, জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের ওপর চড়া সুদ এবং ব্যাংকিং খাতে বিরাজমান উচ্চ সুদের হার একদিকে মুল্যস্ফীতি কমাতে বাধা দিতে পারে অন্যদিকে ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির ওপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিদ্যমান ব্যক্তিখাতের স্থবির বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে আরো বিপ্রতীপ প্রভাব ফেলে মোট দেশজ উত্পাদন প্রবৃদ্ধির হার সংকুচিত করে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ব্যবহূত তহবিল ও সরকারি সঞ্চয়পত্রের ওপর উচ্চ সুদ প্রদান অর্থনীতিতে বিনিয়োগের চাহিদা কমিয়ে দিয়ে মোট দেশজ উত্পাদনের প্রবৃদ্ধির হারকেও মন্থর করে দিতে পারে। বিগত অর্থবছরগুলোর মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ২০১৪ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ ও প্রথমার্ধ এবং ২০১৩ অর্থবছরের দ্বিতীয়র্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির হারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল যথাক্রমে ৭ শতাংশের নিচে, ৭ ও ৭.৫ শতাংশ। কিন্তু প্রকৃত মূল্যস্ফীতির হার যথাক্রমে ৭ দশমিক ৩৫, ৭ দশমিক ৩৫ এবং ৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। একই সময়ে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৫, ১৫ দশমিক ৫ ও ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫ দশমিক ৭, ১১ দশমিক ১ ও ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষতা ও সৃজনশীলতার অভাবে বর্তমান মূদ্রানীতিতে ঘোষিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত অর্জনের মধ্যে পার্থক্য বেশি হওয়ায় মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা ও কার্যকরিতা সংকটে পড়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ের উচ্চ সুদের হার সম্বলিত সংকোচনশীল মুদ্রানীতিগুলোর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায় নি। উপরন্তু ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ব্যহত করেছে ও ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের পরিমান ২০১১-১২ অর্থবছরের মোট দেশজ উত্পাদনের ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশে ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আরও কমে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশে উপনীত হয়েছো।
