পদ্মার তলদেশে অজ্ঞাত বস্তুর সংকেত

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪১
¬পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত লঞ্চ পিনাক-৬ অনুসন্ধান কিংবা শনাক্তকরণে শেষ ভরসা নৌ-বাহিনীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র ‘সাববটম প্রোপাইলার’। পদ্মা নদীতে সংকেত পাওয়া বস্তুর সন্ধান নিশ্চিত করতে গতকাল শনিবার থেকে এই যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ৮৩ কেজি ওজনের এই যন্ত্রটি নদীর তলদেশে কাদামাটি কিংবা পলি মাটির ৬০ থেকে ৭০ মিটার গভীরে পর্যন্ত কোন বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক অনুসন্ধানের গতকাল শনিবার ছিল ৬ষ্ঠ দিন। সন্ধ্যা পর্যন্ত লঞ্চটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। নৌ-বাহিনীর অত্যাধুনিক যন্ত্র ‘সাইডস্ক্যান সোনার’ নদীতে ব্যবহার করে অনুসন্ধান কার্য চালিয়েছে অনুসন্ধানকারী জাহাজ কান্ডারি-২। গত শুক্রবার ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী খাঁড়ি ও এর অদূরে কয়েক স্থানে সাইডস্ক্যান সোনারের মাধ্যমে সংকেত পাওয়া গেলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা মনে করেন ঐ স্থানে ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাকের ন্যায় কোন বস্তু থাকতে পারে যেটি কাদামাটি বালি কিংবা পলি মাটিতে ঢাকা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নৌ-বাহিনীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র সাববটম প্রোপাইলার ব্যবহার শুরু করা হয়। অনুসন্ধান কাজে সংশ্লিষ্ট একজন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সমুদ্রের পানি আর নদীর পানির মধ্যে পার্থক্য অনেক। সমুদ্রের পানি পরিষ্কার স্বচ্ছ। আর নদীর পানি ঘোলাটে, বালি ও পলি মাটিযুক্ত। পদ্মা নদীর ঘোলা পানি সাইডস্ক্যান সোনারের শব্দ তরঙ্গ শুষে নেয়। ফলে নদীর গভীর থেকে যন্ত্রটির মনিটরে ভাল ছবি আসে না। এ কারণে বোঝা যায় না তলদেশে কি রয়েছে। সাইডস্ক্যান সোনারের মাধ্যমে পদ্মার তলদেশ থেকে কয়েকটি অস্বাভাবিক সংকেত আসছে। বিষয়টি অস্পষ্ট। ঐ সংকেত অনুযায়ী তলদেশে বালি, কাদামাটি ও পলি মাটির নিচে পিনাক লঞ্চ রয়েছে কিনা, সাববটম প্রোপাইলারের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুসন্ধান কাজ চলছে বলে উক্ত বিশেষজ্ঞ জানান। চট্টগ্রামে বহিঃনোঙ্গরে কক্সবাজার ও কুতুবদিয়া পর্যন্ত সমুদ্রে ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নিমজ্জিত ছোট-বড় ৪০টি জাহাজ এবং ফিশিং বোট ও ট্রলার শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে নৌ-বাহিনীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ঐ যন্ত্রের মাধ্যমে। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম দিকে কক্সবাজারে ফিশিং ট্রলার নিমজ্জিত হওয়ার পরদিন নৌ-বাহিনী ঐ যন্ত্রের মাধ্যমে সেটি শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। যন্ত্রটি আমেরিকায় তৈরি। আমেরিকা ও ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে নদী বা সাগরে নিমজ্জিত জাহাজ, লঞ্চ বা অন্য কোন নৌযান অনুসন্ধানের কাজে এই যন্ত্রটিই ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীও এটি ব্যবহার করে আসছে। আমেরিকা, ব্রিটেনসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই যন্ত্র ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ লোক নৌ-বাহিনীতে বেশ কয়েকজনই রয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে চলছে পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত লঞ্চ পিনাক অনুসন্ধানের কাজ। উল্লেখ্য, সাইডস্ক্যান সোনারের ওজন ১৫ কেজি। এটি নদীর ৩শ’ মিটার গভীর পর্যন্ত নিমজ্জিত জাহাজ, লঞ্চ কিংবা অন্য কোন নৌযান শনাক্ত করা সম্ভব। আর সাববটম প্রোপাইল নদী যত গভীরই হোক না কেন, তার তলদেশের ৭০ মিটার পর্যন্ত কোন বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।