কিছু প্রেমের গল্প

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৫৩
প্রেমের আদর্শ বর্তমান সময়ে এসে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রেম মনের দিক থেকে হয় না, অনেকাংশেই নির্ভর করে বিত্ত এবং সৌন্দর্যের উপর। তবে এর মধ্যেও দেশে-বিদেশে এমন কিছু প্রেমের ঘটনা ঘটছে যা আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই সব ঐতিহাসিক প্রেমের ইতিহাসের কাছে। এ প্রজন্মের জন্য তেমনই কিছু প্রেমের গল্প তুলে ধরা হলো। মুকেশ কুমার-আদ্রিয়ানা পেরাল মুকেশ কুমার পেশায় একজন কৃষক। বাড়ি ভারতে। আর আদ্রিয়ানা পেরালের বাড়ি সদূর আমেরিকা। ৪১ বছরের আদ্রিয়ানা পেরালের জীবনটা কাটছিল আর বাকি পাঁচজন হাইপ্রোফাইল গৃহস্থ মার্কিন নারীর মতোই। অফিসে ফেসবুকের সামনে মাঝে মাঝে বসার সুযোগ পেতেন। তখনই পরিচয় হয় হরিয়ানার ২৫ বছরের মুকেশ কুমারের সঙ্গে। মুকেশের সঙ্গে মিশেই জীবনের মানে খুঁজে পেতে শুরু করেন পেরাল। মুকেশের কাছ থেকে ঠিকানা চেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্লেনে চড়ে দিল্লি। দিল্লি এয়ারপোর্টে তখন পেরালের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মুকেশ। যা দেখে চোখে জল চলে এল পেরালের। পেরালের মেয়েরও দারুণ পছন্দ হয়ে যায় মায়ের প্রেমিক মুকেশকে। এরপর আর কী... সাত পাকে বাঁধা। ক্যালিফোর্নিয়ার সেই পাঁচতারা জীবন ছেড়ে হরিয়ানায় একতারা জীবনে পাড়ি। এখন নিজে হাতে রুটি করেন, শাশুরির কাছে রামায়ণ-মহাভারতের গল্পও শোনেন। মুহাম্মদ সালেহ-কারলি ওয়াটস কারলি ওয়াটস হলেন একজন বিকিনি মডেল তারকা। কিন্তু সেই কারলি ওয়াটস এখন রীতিমতো হিজাব পরতে শুরু করেছেন। এমনকি ইসলাম ধর্মেও দীক্ষিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই আমেরিকান মডেল তারকা। আর কিছু নয় শুধুমাত্র প্রেমের টানেই তার এই পরিবর্তন। তিউনিশিয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়ে সেখানকার মুহাম্মদ সালেহের দেখা পান কারলি ওয়াটস। পরিচয় থেকে ভালোলাগা, তারপর ভালোবাসা। কারলি ওয়াটস জানান, তিনি এতদিন মডেলিং করেছেন। কিন্তু মুহাম্মদকে ভালোবাসার পর থেকে তার বিশ্বাস বদলে যেতে থাকে। বাকি জীবনটা তাই মুহাম্মদের সঙ্গেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারলি। হাফিজউদ্দিন-শুকুরী বিবি দীর্ঘ ২৭ বছর স্ত্রীর কবরের পাশে কাটিয়েছেন তিনি। পারিবারিক চাপে স্ত্রীর কবর ছাড়লেও বাড়িতে ফেরেননি। গত ৬ বছর থেকে বাড়ির বাইরে কবরের আদলে তৈরি করা ঘরে অবস্থান করছেন। স্ত্রীর আত্মার সান্নিধ্য লাভের আশায় পার্থিব জগতের আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস আর চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করেছেন তিনি। সহধর্মিণীর হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বেদনা বিধুর অমলিন স্মৃতিকে ধরে রাখতেই তার এই আত্মত্যাগ। ভালোবাসার এই ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বাকপুর গ্রামের মৃত বরকত আলী মিয়ার পুত্র হাফিজউদ্দিন (৮১) এখনও সাধনায় আছেন স্ত্রীর আত্মার সান্নিধ্যের আশায়। বিয়ের ১৯ বছরের মাথায় স্ত্রী বিয়োগে কাতর হাফিজউদ্দিন দীর্ঘ ২৭ বছর নির্জন গোরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশে জীবিত লাশ হয়ে সহাবস্থানের চেষ্টায় রত ছিলেন। পল ম্যাসন-রেবেকা মাউন্টেন পল ম্যাসনের ওজন ছিল ৯৮০ পাউন্ড। বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মানুষ ছিলেন তিনি। ওজনের ভারে উঠতে পারতেন না পর্যন্ত। সেই পলের জীবনেই ক মাস আগে বদল যায়। সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে একজন পলের জীবন বদলে দেয়। সেখানেই মনের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। নিজের পরিচয় দিয়ে পল তার প্রিয় পছন্দের মানুষটিকে বলেছিল, ‘তুমি সঙ্গে থাকলে আমি সব ভার বইতে পারব। সেই ৯৮০ পাউন্ডের মানুষ পল ম্যাসনের প্রেম কাহিনী আজ নতুন পথ দেখাল বিশ্বের তাবত্ মোটা মানুষদের। প্রেমের টানে ৬৭২ পাউন্ড ওজন কমালেন তিনি! ৫২ বছর বয়সী পলের এই প্রেমিকার নাম রেবেকা মাউন্টেন। রেবাকাকে প্রথমবার মুখোমুখি দেখে কেঁদে ফেলে পল বললেন, থ্যাঙ্ক ইউ আমার পাশে থাকার জন্য। পলের প্রেমিকা রেবেকাও নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এই রকম একটা অন্য ধরনের প্রেমকাহিনী দেখে সবাই অবাকও বটে।