ব্যারোনেস সাইয়েদা ওয়ারসি

ব্রিটিশ মন্ত্রীর অন্যরকম প্রতিবাদ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২০:০০
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী ব্যারোনেস সাইয়েদা ওয়ারসি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার বিষয়ে তার সরকারের নীতি মেনে নিতে না পেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিজের টুইটার পাতায় জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, ‘গভীর অনুতাপের’ কারণে ওয়ারসি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন বলে নিজের টুইটার বার্তায় উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ওয়ারসি এর আগে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে ডেভিড ক্যামেরন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের পর দেশটির প্রথম নারী মুসলিম মন্ত্রী মনোনীত হন তিনি। রাজনীতিতে আসার আগে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করা ওয়ারসি। টুইটারে তিনি লিখেন, গভীর অনুতাপের সঙ্গে আমি প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছি এবং আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। গাজা বিষয়ে সরকারের নীতির প্রতি আমি আর সমর্থন জানাতে পারছি না। টুইটারে ওয়ারসি এই সমস্যা সমাধানে আরো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ওয়ারসি তার টুইটার পাতায় লিখেছিলেন, নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা করা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। গাজায় দ্রুত অস্ত্রবিরতির প্রয়োজন। দুইপক্ষের নেতৃত্বকেই এই দুর্দশা বন্ধের উপায় খুঁজতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলের সামনে বোমা হামলার ঘটনার নিন্দা করে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যা বলেছেন তা ঠিক। তবে মুন ওই হামলাকে ‘নৈতিকভাবে চূড়ান্ত অবমাননাকর এবং অপরাধ’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে ক্যামেরন একমত কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলেননি। ওয়ারসি পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, গাজা বিষয়ে সরকারের নীতি নৈতিকভাবে অসমর্থনযোগ্য, ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের যে সুনাম, তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। ওয়ারসি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেয়া তার জন্য ‘এত সহজ’ ছিল না। কিন্তু গাজা ইস্যুতে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছিল, তাতে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দারুণ অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি আরো বলেছেন, এর আগে যে সিদ্ধান্তগুলো আমি নিয়েছি বা সমর্থন করেছি, সেগুলোর সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু এ দফায় আমি একমত ছিলাম বলে মনে করি না। লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন ওয়ারসির মতামতকে সমর্থন করেছেন। তবে ওয়ারসি আবার মন্ত্রিসভায় ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, এখানে গোপনীয়তার কোনো সুযোগ নেই। গাজা ইস্যুতে সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত রয়েছে। এ বিষয়ে ওয়ারসির জোরালো মতামত রয়েছে।