তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে একটি পক্ষ গার্মেন্টস খাতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের বেতন নিতে আসতে বাধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য গোলটেবিল বৈঠকে সরকার আর বিজিএমইএ’র সমালোচনা করা হয়। ষড়যন্ত্রকারীদের আক্ষেপ এই ইস্যুতে বড় আন্দোলন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন তিনি। এ সময় তোবা’র মালিক চাইলে আইনগতভাবে কারখানা বন্ধ করতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের সব ধরনের পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে তোবা’র শ্রমিকদের বোনাসও দিতে হবে বলে জানান তিনি।
তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে ঈদের আগের দিন থেকে বাড্ডায় হোসেন মার্কেটে তোবা গ্রুপের শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। গত ৬ ও ৭ তারিখে বিজিএমইএ ভবনে দুই মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়। আর গতকাল বাকি এক মাসের (জুলাই) বেতন ও ওভারটাইমের অর্থ পরিশোধ করা হয়। ১ হাজার ৪২০ জন শ্রমিকের প্রায় সবাই বেতন নেন। বেতন পরিশোধ চলাকালে বিজিএমইএ এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। এতে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ছাড়াও বিজিএমইএ ও গার্মেন্টস শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তোবা ইস্যুতে বিজিএমইএ ও সরকারের সমালোচনা করায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের কড়া সমালোচনা করে তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঈদের আগে এই খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এজন্য মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি দেয়া হয়েছিল। ঈদের আগেও একই চেষ্টা হয়েছি। কিন্তু তোবা’র শ্রমিকরা বেতন নিয়েছেন। তাদের অবরোধের ডাক দেয়া হলেও শ্রমিকরা তা মানেননি। এটাই প্রমাণ করে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। বেতনের সাথে রাজনীতিকে যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন তাদের দু:খ এটাকে নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা গেল না।
অবশ্য তোবা নিয়ে সমস্যা ছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, মালিক জেল থেকে আইনগত ভাবে বের হয়ে শ্রমিকদের বেতনের ব্যবস্থা করেছেন।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইলেকশন নিয়ে নীতির কথা বলে। অথচ নিজের দেশে তা মানে না। গাজায় একের পর এক শিশু হত্যা করা হচ্ছে। অস্ত্র কে দেয়?’ একইভাবে মিসরের নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে বর্তমান সরকার কোন দেশের সমর্থনে ক্ষমতায় বসে আছে সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, কেউ নির্বাচনে না এলে দায় কার? থাইল্যান্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইংলাক সিনাওয়াত্রা নির্বাচন করতে পারলে সে দেশে সামরিক শাসন আসত না। না পারায় এসেছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নির্বাচন করতে পেরেছেন। এটা তার দক্ষতা, যোগ্যতা।
হোসেন জিল্লুর রহমানের সমালোচনা করে নৌ পরিহনমন্ত্রী বলেন, হোসেন জিল্লুর ষড়যন্ত্রকারীদের একজন কি না তা ভেবে দেখতে হবে। দেশে নৈরাজ্য আর জটিলতা থাকলে তারা উপকৃত হন। উপদেষ্টা হতে পারেন। তার (মন্ত্রীর) ব্যাপারে সঠিক তথ্য জেনে সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের নিয়ে তার নেতৃত্বের অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম তোবা গ্রুপের মালিক দোলোয়ার হোসেনের সংকট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তোবা’র মালিক জমি ও মেশিনপত্র বিক্রি করে বেতন দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি কারখানা কীভাবে চালাতে পারবেন তা বড় বিবেচ্য বিষয়। তবে সহযোগিতা পেলে তিনি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
প্রসঙ্গত তোবা’র মালিক দোলোয়ার হোসেনের তাজরীন ফ্যাশন্স গত ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর পুড়ে যায়। তাতে ১১২ জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান। ওই মামলায় মালিক দেলোয়ার হোসেন গত ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে যান। এর পর তার কারখানাগুলোতে সংকট সৃষ্টি হয়। গত মে মাস থেকে ৫টি কারখানার শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন তারা। সর্বশেষ ঈদের আগের দিন থেকে কারখানায় আমরণ অনশন করেন তারা।
