নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন র্যাব-১১ এর দুই সদস্য। এতে তারা সাতজনকে অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলা দেয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করেছে বলে স্বীকার করেছেন।
রবিবার বিকালে পৃথকভাবে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালতে র্যাব-১১ এর এএসপি শাহরিয়ার ও অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে নায়েক নাজিমউদ্দিনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে তারা অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি জানান, সাক্ষী হিসাবে তারা অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, র্যাবের দুই সদস্য সাত খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। দুইজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাক্ষ্য দেয়া র্যাবের ২ সদস্য আদালতকে জানান, অপহরণ থেকে শুরু করে সাতজনকে অজ্ঞান করে গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে নেয়া, হত্যার পর কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে ওঠানোর পর প্রত্যেকের লাশের সঙ্গে রশি দিয়ে বস্তাবন্দি করে ইট বাঁধা এবং মদনগঞ্জের চরধলেশ্বরী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়ে ফেলে দেয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে র্যাব-১১ জড়িত ছিল।
নূরের গাড়ি চালক ৭ দিনের রিমান্ডে
সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের গাড়ি চালক ও বডিগার্ড মিজানুর রহমান দিপুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত হত্যাকাণ্ডের পর ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় গ্রেফতার হলেও দেশে আনা হয়নি। মামলার চার্জশিটও দেয়া হয়নি। এসব কারণে নিহতের স্বজনসহ এলাকাবাসী মামলার ভবিষ্যত্ নিয়ে উত্কণ্ঠায় রয়েছে।
নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের একশ দিন পরও পুলিশ এজাহারভুক্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দ্রুত আসামি গ্রেফতার ও চার্জশিট দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। যুবলীগ নেতা স্বপনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী বলেন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পারলেও শত্রুর হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। জীবদ্দশায় ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।
