ছাতকে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের একমাত্র স্লিপার উত্পাদনকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কংক্রিট স্লিপার কারখানা প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। কাঁচামাল সংকট ও উত্পাদিত স্লিপার ঠিকাদাররা সরবরাহ না নেয়ায় কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। স্লিপার কারখানাটি বন্ধ হওয়ার কারণে কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট শতাধিক ব্যক্তি বেকার হয়ে পড়েছেন। সরবরাহ না থাকায় কারখানায় উত্পাদিত প্রচুর স্লিপার স্ট্যাকইয়ার্ডে খোলা আকাশের নীচে পড়ে রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমপ্রতি বেসরকারিভাবে গজিয়ে ওঠা একাধিক স্লিপার কারখানার কারণে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২০ মার্চ থেকে কারখানাটি বন্ধ থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতি ও স্ট্যাকইয়ার্ডে থাকা স্লিপারসহ মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
১৯৮৮ সালের ২৭ অক্টোবর তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানাটি বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন শুরু করে। কারখানায় কংক্রিট স্লিপার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হাইটেনশন স্টিল রড, এমসিআই ইনসার্ট স্টিল পাত ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এছাড়া ছাতক সিমেন্ট কারখানার স্পেশাল ডায়মন্ড ব্রান্ড সিমেন্ট, ভোলাগঞ্জ পাথর ও বালু দিয়ে উচ্চমানসম্পন্ন কংক্রিট স্লিপার এ কারখানায় উত্পাদিত হয়ে আসছে। কারখানা প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরের মধ্যে একাধিকবার কাঁচামাল সংকটের কারণে কারখানাটি বন্ধ হলেও বর্তমানে স্ট্যাকইয়ার্ডে ধারণক্ষমতা না থাকায় কারখানাটির উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। উত্পাদিত স্লিপার যথাসময়ে সরবরাহ না হওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কারখানাটি।
বর্তমানে প্রধান কাঁচামাল ভোলাগঞ্জ বোল্ডার, এমসিআই ইনসার্ট পাত, মোল্ড ওয়েল ও স্ট্যাকইয়ার্ডে ধারণক্ষমতা না থাকায় কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে। জামালপুরে ‘তমা’ ও পঞ্চগড়ে ‘ম্যাক্স’ নামে দু’টি প্রাইভেট স্লিপার কারখানা গড়ে উঠায় মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ে রাষ্ট্রীয় স্লিপার কারখানাটিতে। রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রাইভেট কংক্রিট স্লিপার কারখানা উন্নতমানের কাঁচামালের অভাবে তাদের গড়ে উঠেছে এইসব প্রাইভেট কারখানায় উত্পাদিত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের স্লিপার। রেলওয়ের নিবন্ধিত ঠিকাদাররা এসব স্লিপারই বিভিন্ন প্রকল্পে সরবরাহ করছেন। অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে সংগ্রহ করা এসব স্লিপার রেললাইনে ব্যবহূত হওয়ায় কম সময়ে নষ্ট হওয়ার আশংকাও রয়েছে।
গত বছরের মাঝামাঝি ‘তমা’ ও ‘ম্যাক্স’ কংক্রিট কারখানায় উত্পাদিত স্লিপার টেস্টিংয়ের জন্য ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানায় পাঠানো হয়। ওই সময় কারখানার টেম্পারেচার অপারেটর ইসকন্দর আলী জানিয়েছিলেন, প্রাইভেট কারখানাতে উত্পাদিত স্লিপার অত্যন্ত নিম্নমানের।
