অবসরে যাওয়া ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবসরে যাওয়ার আগে বেশ কিছু মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও তড়িঘড়ি করে রায় ও আদেশ দেয়ার অভিযোগ উঠায় এ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মামলা খালাসের রেকর্ড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তড়িঘড়ি করে ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ ফারুক আহম্মেদ অবসরের আগের ১৮ কার্যদিবসে ২৪ মামলার রায় দেন। এসব মামলার আসামিদের তিনি বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এছাড়া তিনি একদিনে ১০ মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা এবং যুক্তিতর্ক শেষ করেন। শুনানি শেষে চার থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে ২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার নিষ্পত্তি করা মামলাগুলোর নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মামলা খালাসের পাশাপাশি তিনি গত জুন মাসে মাদক মামলার ৪৫ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন। আর ছয় মাসে খালাস দিয়েছেন ৭৭ মামলার আসামিদের।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওইদিনই আপিল বিভাগের বিচারপতি এসকে সিনহা নিজে ঢাকার নিম্ন আদালতে গিয়ে ওই বিচারকের নিষ্পত্তিকৃত কিছু মামলার নথিপত্রের ফটোকপি নিয়ে আসে। এসব নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাতে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় ওই বিচারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৬ জুন অবসরে যান বিচারক ফারুক আহম্মেদ।
