কখনো নিজেকে জ্বিনের বাদশা বলে আবার কখনো অন্ধ সেজে প্রতারণা করত শাহ আলম খান। এভাবে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার এই ‘জ্বিনের বাদশা’ ও তার প্রধান সহযোগী কামরুজ্জামান ফারুককে রাজধানীর বংশালের হাজী ওসমান গণি রোডের ঢাকা হোটেল থেকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চারটি হত্যাসহ ১১টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার রায়হান উদ্দিন খান বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কায়দায় প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শাহ আলম। প্রতারণার সময় তিনি বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিতেন। এই প্রতারণার কাজে তিনি একটি সংঘবদ্ধ দলকে ব্যবহার করেন।
র্যাবের অপারেশন অফিসার আরো জানান, শাহ আলম নিজের কাছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কয়েক কোটি টাকার দুর্লভ ধাতব মুদ্রা রয়েছে দাবি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এই মুদ্রা বিক্রির কথা বলে তিনি রাজধানীর সৌখিন ধনী লোকদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে বলত এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাসা কর্তৃক পরীক্ষিত দুর্লভ ধাতব মুদ্রা। ওই মুদ্রা বিক্রি করার সময় নিজেকে তিনি সৌখিন অভিজাত লোক সাজাতে মুদ্রা ক্রয়ে আগ্রহী ক্রেতাদের নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ফাইভ স্টার হোটেলে বসতেন। এভাবে কয়েকটি মুদ্রা তিনি প্রায় তিন কোটি টাকায় ঢাকা সিটি কলেজের ইংরেজির শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের কাছে বিক্রিও করে দেন। পরে মোফাজ্জল হোসেন বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। ততক্ষণে পালিয়ে যান প্রতারক শাহ আলম।
তিনি আরো বলেন, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. এম এ কাশেমের কাছ থেকে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলেকে সুস্থ করার কথা বলে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শাহ আলম। তখন শাহ আলম নিজেকে জ্বিনের বাদশা পরিচয় দেন। এছাড়া অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
