আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশের মতো বড় বড় কয়েকটি নদী ও এর শাখা নদীর পাললিক ভূমিসৃষ্ট অববাহিকা হচ্ছে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশকে যেমন পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা প্রধান তিনটি নদী এবং অনেক শাখা নদী জালের মতো ঘিরে দেশটিকে উর্বর ও সুফলা করে রেখেছে। তেমনি ইউরোপীয় তিনটি প্রধান নদী যেমন রাইন, মিউছ, শেল্ড এবং এদের বিভিন্ন শাখা নদী নেদারল্যান্ডসকে পলি সিঞ্চিত করে সুজলা, সুফলা ও শস্য শ্যামলা করেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ দিকে যেমন বঙ্গোপসাগর এর বিশাল জলরাশি এবং সম্পদ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি নেদারল্যান্ডসের পশ্চিমে উত্তর সাগর নেদারল্যান্ডসকে তার বিস্তীর্ণ জলসীমায় বাণিজ্য বিস্তার এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে নৌবহরের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিযান চালিয়ে সম্পদ করায়ত্ত ও উপনিবেশ স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে। রটেরডাম পোর্ট বর্তমানে ইউরোপের সর্ববৃহত্ বন্দর। যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির বাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় এ বন্দর বর্তমানে বিশ্বের ৮ম বৃহত্তর পণ্য পরিবহন বন্দরে পরিণত হয়েছে। বছরে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৪ কোটি মেট্রিক টন পণ্য উঠা-নামা করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি ও অর্থনীতির প্রাণ প্রবাহ। তাছাড়া বাংলাদেশের খুলনায় মংলা নামে আরেকটি বন্দর রয়েছে। এসকল বন্দর দিয়ে বছরে মাত্র ১.৫ মিলিয়ন ইটিইউ (সমতুল্য টার্মিনাল ইউনিট) পণ্যসামগ্রী যা নেদারল্যান্ডসের তুলনায় খুবই অল্প। বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে ১,৪৪,০০০ বর্গ কি.মি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে ১১৪৬ জন লোক। জনসংখ্যার দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম দেশ। জনঘনত্বের দিক দিয়ে এটি বিশ্বে প্রথম। বাংলাদেশিদের মাথাপিছু আয় প্রায় ১১৯০ মার্কিন ডলার।
নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের চেয়ে অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হলেও কিন্তু শুরুতেই দেশটা এমন উন্নত ছিল না। এর নিম্ন ও সমতল ভূভাগের মাত্র ৫০ ভাগ সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এক মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। আর সেজন্য ভৌগোলিকভাবে নেদারল্যান্ডসের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে-“নিম্ন দেশ”। এর আয়তনের ২৬ ভাগ জায়গা নিম্নাঞ্চলভুক্ত এবং জনসংখ্যার ২১ শতাংশ এ ধরনের নিম্ন সমতল ভূমিতে বাস করে। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্টের নিচে নেদারল্যান্ডসের যে জায়গাসমূহে বসতি স্থাপন করা হয়েছে বা কৃষি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার পুরোটাই হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট। পরিসংখ্যান মতে, নেদারল্যান্ডসের বর্তমান ভূ-ভাগের ১৭ ভাগ হচ্ছে সমুদ্র, হ্রদ হতে উদ্ধারকৃত জমি (রিক্লেইমড লেন্ড)। নেদারল্যান্ডসের ৬০ ভাগ জায়গা বন্যাপ্রবণ। আর বাংলাদেশের ৮০ ভাগ ভূ-ভাগ বন্যাপ্রবণ সমতল এলাকায়, বাকি ৮ ভাগ এবং ১২ ভাগ হচ্ছে যথাক্রমে অসমতল উঁচু-নিচু এলাকা এবং পাহাড় এলাকা। চট্টগ্রাম এবং সিলেট ব্যতিত দেশের অধিকাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ট হতে মাত্র ১১ মিটারের উপরে। উপকূলীয় এলাকায় এ উচ্চতা আরো কম, মাত্র ১ মিটার হতে ২ মিটার।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ তথা পানি ব্যবস্থাপনা ডাচ জনগণের ঐতিহ্য ও রক্তে মিশে আছে। তারা সুদীর্ঘকাল হতে শিখেছে কিভাবে বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করে এর সাথে সাযুজ্য করে টিকে থাকা যায়। ডাচ সরকার ও তাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে বড় বড় সব নদী এবং সাগরের জলরাশিকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। এ জন্য পোল্ডার, ডাইক, স্লুইস গেইট এবং ছোট ছোট অসংখ্য লেক, শাখানদী, জলাধার নির্মাণ করে পানি প্রবাহকে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণাধীন রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় নদীকে ড্রেজিং করে এর গতিশীলতা বাড়ানো হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ যাতে বন্যার সৃষ্টি না করে সেজন্য উইন্ডমিল ও শক্তিশালী পাম্প স্থাপন এবং বিদ্যমান নদীর পাশে আরেকটি নদী খনন করে পানি সংরক্ষণ ও পানি প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর সবগুলোই করা হয়েছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে। নেদারল্যান্ডসের যে শহর বা গ্রামে আপনি যান না কেন দেখবেন সেখানে প্রবহমান নদী, শাখানদী, খাল, জলাধার, হ্রদ বিদ্যমান। এগুলোর পানি এমন টলমলে, স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ যে আপনার মনে হবে নেমে একটু স্নান করে নিই। প্রায় নদীতে, জলাধারে এবং হ্রদে দেখা পাবেন হংস, ডাহুক, পানকৌড়ি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস, কেউ এদের বিরক্ত করে না। মানুষ এবং পাখির এ এক অনন্য সহঅবস্থান। একটি শিল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বে্ কোথাও নদী, খালা বা জলাধারের পানি আপনি দূষিত পাবেন না। কারণ কোনো শিল্প-কারখানা বা গৃহস্থালীর তরল বর্জ্য কোনোভাবে নদী-নালা বা খালে-বিলে ফেলা হয় না। সমস্ত গ্রাম বা নগরবাসীর তরলবর্জ্য এবং শিল্প-কারখানার তরল বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে কেন্দ্রিয় পানি শোধনাগারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পরিশোধনের পর তা আবার নদী বা সাগরে নির্গত করা হয়। শিল্প কল-কারখানার তরল শিল্প বর্জ্য প্রথমে শিল্প-কারখানায় স্থাপিত নিজস্ব শোধনাগারে প্রাথমিকভাবে শোধন করা হয়। পরে তা নির্দিষ্ট মানমাত্রার মধ্যে নিয়ে আসা হলে পাইপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শোধনাগারে নিয়ে আসা হয়। এভাবে শিল্পোন্নত হয়েও নেদারল্যান্ডস সরকার, শিল্প মালিকগণ এবং সরকার তাদের দেশের নদ-নদী, খাল-বিল এবং জলাধার রক্ষায় সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জনগণ সুদীর্ঘকাল হতে বন্যা, মহামারী, খরা ইত্যাদির সাথে যুদ্ধ করে ঠিকে আছে। বিভিন্ন সময় প্রলয়ংকরী বন্যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এদেশের জনগণ সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবে সাহস ও উদ্যম হারায়নি। বিশেষ করে ৬৯-এর বন্যায় এদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লক্ষ লক্ষ লোক মারা গেলেও, ৭৪, ৮৭, ৯০, ৯৮, ২০০৪ এর বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে এদেশের অনেক লোক হতাহত হলেও এদেশের কর্মচঞ্চল মানুষ আবার প্রাণের তাগিদে জেগে উঠেছে। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, সরকার কিংবা সরকারি যে সংস্থাসমূহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পানি ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ছিল তারা কি তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছে? না পারেনি। আর পারেনি বলেই আজো আমরা বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দূষণ ও দখল নিয়ন্ত্রণে সর্বোপরি একটি সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারিনি।
এর সাথে অনিয়ন্ত্রিত ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে ঢাকার ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর সংকটাপূর্ণ লেভেলে গিয়ে উপনীত হয়েছে। প্রতি বছর ৩/৪ মিটার করে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। এখন ঢাকা শহরে ২০ মিটার নিচেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও ঢাকা ওয়াসার ভ-ূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং শিল্প-কারখানা কর্তৃক অবারিত পানি উত্তোলনে কোনো লাগাম টানা হয়নি। এমনকি ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের জন্য কোনো পানি কর নির্ধারণ করা হচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ১ কেজি ধান উত্পাদনের জন্য প্রায় ৩০০০-৫০০০ লিটার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের হার হচ্ছে শতকরা প্রায় ৫৯ ভাগ। যদিও নতুন পানি নীতিতে নগর মহানগরে গৃহস্থালী এবং সুপেয় পানির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তবে কৃষি কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর বিষয়টি এ নীতিতে স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি। এখানে এটা অবহেলিত, উপেক্ষিত। অথচ আমাদের জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় শতকরা ২২ ভাগ এবং শ্রমশক্তির প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এখনো এখাতে নিয়োজিত। আগামীতে অধিক জনসংখ্যার জন্য আমাদের খাদ্য উত্পাদন আরো বাড়াতে হবে। তখন এ ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ আরো বাড়বে। কিন্তু কৃষি কাজে ভূ-উপরিস্থিত পানি ব্যবহারের জন্য কোনো প্রণোদনা বা কর্মযজ্ঞ নেই। দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও বৃষ্টির পানি ধরে তা পুনর্ব্যবহারের কোনো কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশ অচিরেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি এরকম একটা বিপদ সংকেতই আমাদের দিচ্ছে। তাছাড়া অনেক জায়গায় লবণ পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা যে সকল বাঁধ নির্মাণ করেছি তা আমাদের জীববৈচিত্র্য, নাব্যতা, কৃষি কাজের কথা আমরা মাথায় নিয়েছি বলে মনে হয় না। কারণ ৬০-এর দশক হতে নির্মিত এসকল পোল্ডার, স্লুইস গেইট, বাঁধ আমাদের দীর্ঘমেয়াদী চিন্তার ফসল বলে মনে হয় না। এসকল বাঁধ অনেক জায়গায় পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে নদীর নাব্যতাকে ধ্বংস এবং মত্স্য প্রজননকে বন্ধ করে দিয়েছে। যে সকল মাছের প্রজননের জন্য স্রোত এবং এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন হয়, অপরিকল্পিত বাঁধ দেয়ায় এসকল মাছের চলাচল, প্রজনন এবং বংশ বিস্তারে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমাদের অনেক দেশীয় মত্স্য প্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাকি যে কয়েকটি আছে তা বিলুপ্তির পথে। আগে গ্রামে-গঞ্জে সচ্ছল পরিবারসমূহ জনগণের জন্য দীঘি, পুকুর, জলাশয় নির্মাণ করতেন। কিন্তু পুঁজিবাদের প্রসার হওয়ায় আর জায়গা-জমির দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় সবখানে এসকল পুকুর-দীঘি ভরাট করে দোকান বিপণী বিতান নির্মাণের হুলস্থূল পড়ে গেছে। এতে করে জলাবদ্ধতা বাড়ছে, দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাছাড়া, অনেক আগে থেকেই আন্তর্জাতিক নদীর গতি ও পানিপ্রবাহকে বিবেচনায় না নিয়ে যেসকল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ না করে পলি জমা হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে এবং অনেক জায়গায় খরার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও গবেষণা না থাকায় এরকম উল্টো ফলাফল পাওয়া গেছে।
আর এখানেই আমাদের শিক্ষা নেয়ার আছে নেদারল্যান্ডসের পানি ব্যবস্থাপনা হতে। নেদারল্যান্ডস সরকার এবং জনগণ দেখিয়েছে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, জ্ঞান আর প্রজ্ঞা থাকলে কিভাবে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। ১৯৫৩ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার পর নেদারল্যন্ডস সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করে তা দীর্ঘ ৫০ বছরে এসে একটি শক্তিশালী পানি ব্যবস্থাপনা দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যে কারণে নেদারল্যান্ডস আজ সারা বিশ্বে বন্যাপ্রবণ দেশ হিসাবে পরিচিত নয়, তারা বন্যাকে জয় করে পানির অমিত শক্তিকে অর্থনীতির উন্নয়নে, সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজে লাগিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের যেখানেই আপনি যাবেন দেখতে পাবেন নদী ও সাগরকে শাসন এবং পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে নেদারল্যন্ডসবাসী, প্রকৃতি এবং পরিবেশকে কিভাবে একে অপরের পরিপূরক হিসাবে ধারণ করে আছেন। সারাদিন বৃষ্টি হলেও সেখানে রাস্তা-ঘাটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না। লোকজন জনদুর্ভোগে পড়ে না। একথা স্বীকার করতে হবে- নেতৃত্বের সুচিন্তিত কর্মযজ্ঞ, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা, সর্বোপরি সততা, নিষ্ঠা, ইস্পাত কঠিন সংকল্প ও দেশপ্রেম নেদারল্যান্ডসকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
আমাদের সরকারের উচিত হবে নদীগুলো রক্ষার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পদক্ষেপগুলো স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী হতে হবে। স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপগুলো হবে নদীর তীর চিহ্নিত করে তা সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখলকৃত নদী-খাল পুনরুদ্ধার এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা করা। আর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হবে বহুমুখী বাঁধ নির্মাণ, জলাধার নির্মাণ, ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর জন্য ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বাড়ানো, পানি কর প্রবর্তন, পানির ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তা পুনঃচক্রায়নের প্রযুক্তির প্রসার, কেন্দ্রিয় শোধনাগার নির্মাণ, শিল্প-কারখানার অনলাইন মনিটরিং প্রবর্তন এবং নিয়মিত নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা। তাছাড়া আমরা যাতে ভারত হতে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা পেতে পারি সেজন্য পানি চুক্তি করা ও নিয়মিত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত করা। এজন্য আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আরো তত্পর হতে হবে। এটা করতে পারলে আমরা আমাদের নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় রক্ষা করতে পারবো। নইলে আমরা একটা পানি-বুভুক্ষু দেশ হিসাবে পরিণত হতে আর বেশি সময় লাগবে না।
লেখক : সরকারের যুগ্ম সচিব
