নিজ নিজ দাবিতে অনড় ইসরাইল ও ফিলিস্তিন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫১
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় তিন দিনের যুদ্ধবিরতি গতকাল বুধবার শেষ হলেও পুনরায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো কোনো চুক্তিতে আসতে পারেনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিন। মিসরের মধ্যস্ততায় কায়রোর আলোচনায় দুই পক্ষই নিজ নিজ দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে আদৌ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সফল হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে আছেন গাজাবাসীও। খবর আল জাজিরার। মিসরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনা থেকে কোনো ফল না আসলে গাজায় আবারো রক্তাক্ত সংঘাত দেখতে হবে বিশ্ববাসীকে। ইসরাইলি একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজা সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌছাতে এখনো অনেক সময় লাগবে। সমঝোতা করা খুবই কঠিন হচ্ছে। ফিলিস্তিনের এক কর্মকর্তা সোমবারের আলোচনা সম্পর্কে জানিয়েছেন, ১০ ঘন্টা ধরে বৈঠক হলেও কোনো ফল হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য অনেক। সবাই নিজ নিজ দাবিতে অনড় রয়েছেন। ফিলিস্তিন চায় ইসরাইল গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করুক। কিন্তু সেই দাবিতে রাজি নয় ইসরাইল। দেশটি জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠনের কাজে হয়তো কিছুদিন অবরোধ প্রত্যাহার করা যেতে পারে। ইসরাইল চায়, হামাসের সুড়ঙ্গ বন্ধ করা এবং রকেট হামলা বন্ধ করা। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কোনো চুক্তিতে সহজে আসতে পারছেন না। নিজ দেশে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার শিকার হতে পারেন এই ভয়ে। এমনকি তার মিত্র রাজনৈতিক দলও তাকে সমর্থন নাও জানাতে পারে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন গাজাবাসী। কিন্তু বাড়ি থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর যে সুন্দর বাড়িটি তারা রেখে গিয়েছিলেন সেটি আর নেই, আছে কেবল ধ্বংসস্তূপ। এদিকে গাজায় যুদ্ধাপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ একটি তদন্ত কমিটি গঠনকে হামাস স্বাগত জানালেও ইসরাইল প্রত্যাখান করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় সোয়া চার লাখ বাসিন্দা তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ১২ হাজারের বেশি বাড়ি হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, না হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলি হামলায় ১৯৩৮ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। আর ইসরাইলের পক্ষে মারা গেছে ৬৭ জন যাদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘ গাজায় ইসরাইল এবং হামাসের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করেছে। স্বাধীন এই দলটি ১৩ জুন, ২০১৪ থেকে গাজার সামরিক অভিযানের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সব ধরনের লঙ্ঘণ তদন্ত করবে। ২০১৫ সালের মার্চের মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে প্যানেল। এই প্যানেলকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের তদন্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল।