১৫ই আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণাদায়ক এবং কলঙ্কিত দিন। যেদিন পরিকল্পিতভাবে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল একদল লোভী এবং তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের তরুণ দল। যাদের সংগঠিত করেছিলেন খন্দকার মোস্তাক আহমেদ।
এই দিনের পর থেকেই বাংলার ভাগ্যাকাশে যে ঘন কালো মেঘের উদয় হয়েছিল আজও কেন জানি না তাকে আমরা দূর করতে পারিনি। আর পারিনি বলেই অনুপনেও কলঙ্ক আজও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হইনি। যার ফলে দেশের অভ্যন্তরে ’৭১-এর বিজয়ের পর লুকিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ্যে আসবার সাহস পেয়েছিল। সেই থেকে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রেই যে অপঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল আজও সেই বিপন্নতায় আমরা সাধারণ মানুষ খাবি খাচ্ছি।
এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধে উদ্দীপ্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মী থেকে মেহনতী জনগণ পর্যন্ত যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবার কথা ছিল তা থেকে আমরা বিচ্যুত হয়েছি।
আজ ১৫ আগস্টের এই বর্বরোচিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে যে ধর্মান্ধতার বিস্তার এবং যুদ্ধাপরাধীদের আস্ফাালন ও তাণ্ডব ক্রমশ মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। সে ক্ষেত্রে আজ প্রয়োজন ১৫ আগস্টের শোক প্রকাশ করাই নয়, শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ অর্জনে মানুষের ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। লেখক: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
