৭ দিনের সাত জানা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৪
চিলের সর্পিলাকার উড্ডয়নের নেপথ্যে শিকার করার সময় চিল আকাশ থেকে হঠাত্ পাক খেতে খেতে তীব্র বেগে নেমে এসে ভূমি ছোঁয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে শিকারকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। খাবারের সন্ধানে উড়তে উড়তে বেশ উঁচুতে উঠতে হয়। একটি গভীর ফোবিয়াস সেন্ট্রালিস, অন্যটি অগভীর ফোবিয়াস সেন্ট্রালিস। দুই ফোবিয়াসই তীক্ষ ছবি গঠনে সাহায্য করে, তবে দ্বিতীয়টির তুলনায় প্রথমটির ছবি বহুগুণে স্পষ্ট। চিলের গভীর ফোবিয়াস সেন্ট্রালিস তার রেটিনার এমন জায়গায় গঠিত, যেখানে কোনো বস্তুর ছবি ফেলতে হলে, বস্তুটিকে চিলের চোখের সোজা সামনে হলে চলবে না। বরং চিলের ঠোঁট বরাবর একটি সোজা রেখা কল্পনা করলে, তার প্রায় ৪০ ডিগ্রি ডানে বা বামে বস্তুটির অবস্থান হতে হবে। বিশুদ্ধ অক্সিজেন মৃত্যুর কারণ! আমরা নিশ্বাসের সময় বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং এ অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষের অভ্যন্তরস্থ রক্তের সংস্পর্শে আসে এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া করে অক্সি-হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা বিভিন্ন ধমনী ও উপ-ধমনী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশের জৈব কোষের সংস্পর্শে এসে দহণ ক্রিয়া সংঘটিত করে। শ্বাসের সাথে আমরা বায়ুর যে অক্সিজেন গ্রহণ করি তা বিশুদ্ধ নয়। প্রাণীকূল শ্বাসের সময় যে অক্সিজেন গ্রহণ করে তার সাথে নাইট্রোজেন মিশ্রিত থাকে। নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির এই নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুস্থ অধিক সক্রিয় অক্সিজেন গ্যাসের দহণ ক্রিয়াকে অনেকটা মৃদু করে ফলে দেহের অভ্যন্তরস্থ দহনক্রিয়া সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে এবং পরিমিত গতিতে সম্পন্ন হয়। হঠাত্ আলো দেখলে হাঁচি আসে অন্ধকার থেকে আলোতে গেলে কিংবা সূর্যের দিকে তাকালে অনেকেরই হাঁচি পায়। নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাঁচির স্টিমুলেশন বহন করে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ। ব্রেইনের ভেতর তা অপটিক বা চোখের নার্ভের কাছাকাছি থাকে। তীব্র আলোর অনুভূতি অপটিক নার্ভ দিয়ে বাহিত হওয়ার সময় তা ট্রাইজেমিনাল নার্ভকেও স্টিমুলেট করে, ফলে হাঁচি হয়। আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন? অনেকেই কাজের ফাঁকে, প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে, আঙুল ফোটান। আঙুল ফোটালে একধরনের জোরালো শব্দ হয়। সাধারণত ধারণা করা হয়, আঙুল মোচড়ানোর সময় হাড়ে হাড়ে ঘষা লেগে বুঝি শব্দ হয়। আসলে আমাদের জয়েন্টগুলোর চারপাশে একধরনের ফ্লুইড থাকে, যেটাকে বলা হয়—সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। যখন আঙুলগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরিয়ে আনি, এই ফ্লুইডে একধরনের ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি হয় এবং একটা বাবল তৈরি হয়, যেটা একদম সাথে সাথেই ভেঙে যায়। এই বাবল ফাটার শব্দটাই হচ্ছে আঙুল ফোটানোর শব্দের উত্স। নখ দেখে রোগের উপসর্গ শরীরের কোনো রোগ হলে তার উপসর্গ অনেক সময় নখে প্রকাশ পায়। ব্যাপারটা অবাক মনে হলেও সত্য। শরীরের বিভিন্ন উপসর্গ নখে প্রকাশ পায়, এ কারণে চিকিত্সকদের রোগ নির্ণয় করতে সুবিধা হয়। যেমন—শরীরে রক্তশূন্যতা হলে নখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় অথবা নখ চামচের মতো আকৃতি হয়ে নিচু হয়ে যেতে পারে এমনকি ক্ষয় হয়ে নখ ভেঙে যেতে পারে। আবার জন্ডিসের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে আপনার নখ হলুদ হয়। স্ট্রোক কী? অনেকে মনে করেন, স্ট্রোক হচ্ছে এক ধরনের হার্টের অসুখ। আসলে স্ট্রোক হচ্ছে মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের কোনো স্থানের রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে বা ব্লক হলে ওই স্থানের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মস্তিষ্কের ওই বিশেষ এলাকা কাজ করতে পারে না। এটিই স্ট্রোক নামে পরিচিত। মস্তিষ্কের ওই বিশেষ এলাকাটি শরীরের যে যে অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে, স্ট্রোক হলে সে সকল অংশের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে। প্যারাসিটামল যেভাবে জ্বর কমায় আমাদের শরীরে যখন কোনো রোগের জীবাণু প্রবেশ করে, তখন আমাদের শরীর ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে কিছু বাবস্থা নেয়। প্রথমেই ওই জীবাণুটিকে ঘায়েল করার জন্য আমাদের শরীর পাইরোজেন নামক একটি পদার্থ নিঃসরণ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত জীবাণুটি যথেষ্ট ঘায়েল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে এটি করতেই থাকে। পাইরোজেন শরীরের তাপমাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। আর শরীরের তাপমাত্রা বাড়া মানেই জ্বর আসা। আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক জায়গায় হিট রেগুলেশন সেন্টার অবিস্থিত, কেন্দ্রটি ঠিক করে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে না কমবে। যখন আমরা পারাসিটামল খাই তখন এটি আমাদের হিট রেগুলেশন সেন্টারে কাজ করে, আর শরীরের তাপমাত্রা কমায়।  গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল