ফ্যাশন আইকন এমা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৭
ফ্যাশন জগতের এক তরুণ প্রতিভা তিনি। খুব অল্প বয়সেই শুরু করেন ক্যারিয়ারের পথ চলা। পড়াশোনার পাশাপাশি বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলেন এমা। আজ একাধারে তিনি একজন অভিনেত্রী, মডেল এবং গায়িকা। এককথায় বলা যায় ফ্যাশন জগতের এক অন্যতম নক্ষত্র। এই তরুণীর ফ্যাশন জগত্ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ফ্যাশন জগতে এক অতি পরিচিত নাম এমা। সফল ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে তার নাম অগ্রগণ্য। তিনি এলিস ও অলিভিয়া নামের ফ্যাশন লাইন তৈরি করে খ্যাতির শীর্ষে উঠে আসেন এবং অল্প বয়সে মিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বাদ পান। বর্তমানে তার বাত্সরিক আয় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এমা তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলা অবস্থায়। তিনি সেসময় পেনিনসুয়েলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তারই সহপাঠী লরেনের সাথে ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে তাদের মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এলিস ও অলিভিয়া নামের ফ্যাশন প্রজেক্টটি। তাদের মিলিত প্রচেষ্টার ফসল মার্কেটে আসার সাথে সাথেই তুমুল ঝড় তুলেছিল। শুরুতেই পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৮০০ দোকানে বিক্রি হয়ে যায় তাদের ডিজাইনের পোশাক। তাদের দুজনের সৃষ্ট কোম্পানি হলেও কোম্পানির খ্যাতি পাওয়ার পিছনে প্রকৃত হাত রয়েছে এমার। তার সৃজনশীল চিন্তাধারা থেকেই মিলিয়ে পোশাকের ডিজাইনগুলো করা হয়। বিপুল পরিমাণে সাড়াও পায় সেগুলো। মডেল কন্যা এমার ফ্যাশনপ্রেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নয়, শুরু হয়েছিল তার শৈশব থেকেই। নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের একটি খবরে বলা হয়, এমা কলেজে থাকা অবস্থায় একটা কাজের ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে প্রথমবার সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শুধু কলেজেই নয়, সবসময়ই তার পোশাকের ধরন ছিল এমন আকর্ষণীয়। এজন্য তাকে অনেকে ফ্যাশনেবল মেয়ে বলে পছন্দ করত। অন্যদিকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে ছিল লরেন। আক্ষরিক অর্থেই সে ছিল অন্যরকম। যদিও ফ্যাশন সম্পর্কে ধারণা ছিল এমার থেকে অনেকাংশে কম। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে শুরু হয় টানাপোড়ন। এবং একসময় তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। লরেন নিজের মতো করে একটা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন ড্রিম হাউস। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। এমা জিন্সের প্যান্ট পরতে খুব পছন্দ করেন, সেই সাথে স্কার্ট ও টপস। বিশেষ করে যেগুলো স্কিনি এবং স্লিম। সাথে বড় বকলেসের বোতাম যুক্ত বেল্ট। পেনিনসুয়েলা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার ডেনিম ব্র্যান্ডের বেশ ভালো একটি কালেকশন গড়ে উঠেছিল। বছরের পর বছর শপিং করে, কাপড় কিনে নিজে সেলাই করে তিনি নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের পোশাক তৈরি করেছেন। এবং প্রতিবারই ভিন্ন ধরনের কিছু, যা ছিল ইউনিক। বলা যায় এভাবেই জন্ম হয় তার ফ্যাশন জগতের। নিউ ইয়র্কের বুকে এই ফ্যাশন তারকার পথচলা শুরু হয় ২০০২ সালের শেষ ভাগে। এবং শুরুতেই সফলতা পেয়ে আলোড়ন তোলেন ফ্যাশন জগতে। এখন সবাই এমার মতো পারফেক্ট ফ্যাশনেবল ড্রেস চায়। তখন মার্কেটে এর নামও ছিল ‘এমা ফ্যাশন’। তার বন্ধুরা তাকে এই নামেই ডাকে। এককথায় রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন অতি জনপ্রিয়। ২০০৩ সাল, এমা তার ফ্যাশন জগতে নিয়ে আসেন আরও একটি নতুন ডিজাইন, কাশ্মিরী সোয়েটার কালেকশন। ঠিক তার পারফেক্ট ফ্যাশনেবল ড্রেসের মতোই এটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নতুন এ দিক দিয়েও এগিয়ে থাকেন তিনি পোশাকের বাজারে। পরের বছরই তিনি মার্কেটে নিয়ে আসেন বিশেষ মানের সুইম ওয়্যার, অর্থাত্ সাঁতারের পোশাক। এবং নাম দেন, এন্টোনি ও মো। ফ্যাশন জগতে প্রবেশের প্রায় দু’বছরের মধ্যে এলিস ও অলিভিয়ার খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই সাথে তার অর্জনের তালিকায় যোগ হতে থাকে একের পর এক ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড। অর্ডারও আসতে থাকে প্রতিনিয়ত। তিনি এরপর প্রথমবারের মতো স্থাপন করেন বুটিক শপ। ২০০৬ সালে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে এলিস ও অলিভিয়ার খ্যাতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও একটি বুটিক শপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। শুধুমাত্র নিউইয়র্ক শহরেই তার বুটিকের সংখ্যা বর্তমানে ৫টি। এরপর তিনি পা রাখেন জুতোর ফ্যাশন জগতে। নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ২০০৮ সালে তিনি তার অন্যান্য কালেকশনের সাথে মিলিয়ে মার্কেটে আনেন বাহারি জুতো। নাম দেন, পেলেস কালেকশন।